সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যাদের হারিয়েছি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জন্ম হলেই তার মৃত্যু অনিবার্য। কিছু কিছু স্বনামধন্য, কীর্তিমান ব্যক্তির মৃত্যু সবাইকে নাড়া দিয়ে যায়। গেলো বছরও দেশ হারিয়েছে শোবিজ অঙ্গনের প্রসিদ্ধ কয়জন ব্যক্তিকে। আমরা হারিয়েছি কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেতা, গায়ক ও পরিচালক। হারিয়ে ফেলা তারকাদের নিয়ে থাকছে আমাদের আয়োজন-

আলাউদ্দিন আলী: একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতব্যক্তিত্ব আলাউদ্দিন আলী মারা যান গত ৯ আগস্ট। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণ জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার ক্যানসারও ধরা পড়ে।

আলী যাকের: ক্যানসারে ভুগে এবং শেষমেস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক আলী যাকের। গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সাদেক বাচ্চু: ১৪ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান নন্দিত অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। এদিন দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এন্ড্রু কিশোর: এ বছরই ক্যানসারে ভুগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর। গত ৬ জুলাই রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মতিউর রহমান পানু: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র প্রযোজক, পরিচালক মতিউর রহমান পানু মারা যান ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে। তিনি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজাদ রহমান: গত ১৬ মে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’সহ বিখ্যাত সব গানের সুরকার তিনি।

আবদুল কাদের: ২০২০ সালে বিনোদন দুনিয়ায় শেষ ধাক্কাটা লাগে ‘বদি’ খ্যাত অভিনেতা আবদুল কাদেরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। পাশাপাশি করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মিনু মমতাজ: বহুদিন ধরে কিডনি এবং চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী মিনু মমতাজ। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায়। রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

সেলিম আশরাফ: দেশের জনপ্রিয় সুরকার সেলিম আশরাফ মারা যান গত ২ মার্চ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শ্বাসকষ্ট ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের সুরকার তিনি।

হাসান ইমাম: টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি, দেশের সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম মারা যান গত ১৫ মে সন্ধ্যায়।

কে এস ফিরোজ: গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান নাট্য ও মঞ্চ অভিনেতা কে এস ফিরোজ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

নাসির উদ্দিন দিলু: গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের নামজাদা চলচ্চিত্র প্রযোজক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন দিলু।

সেলিম খান: টানা ছয় দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

আমিনুল ইসলাম মিন্টু: ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু মারা গেছেন ১৮ ডিসেম্বর দিবগত রাতে। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তার পরিবার।

নিউজনাউ/এমএএন/২০২০

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...
মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত বেড়ে ১০-পার্বত্য জেলায় আধুনিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-বেসরকারি হাসপাতালের সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল-দেশে করোনায় মৃত্যু ৮, নতুন শনাক্ত ৩৮৫-সংঘর্ষ, বর্জনে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা-তামিম-রিয়াদরা দ্বিতীয় কোভিড টেস্টেও নেগেটিভ-মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬-মমতাকে উৎখাতের হুঙ্কার দিয়ে ব্রিগেড শুরু-কার্টুনিস্ট কিশোরের রিমান্ড নামঞ্জুর