alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাগরিকায় ইফতিখার-সাকিবের উন্মত্ত ব্যাটিংয়ে বরিশালের জয়

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩, ১১:৪৫ পিএম

সাগরিকায় ইফতিখার-সাকিবের উন্মত্ত ব্যাটিংয়ে বরিশালের জয়
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে ১৮তম ম্যাচে রীতিমত ব্যাটে ঝড় তুলেছে ফরচুন বরিশাল। সাকিব আল হাসান ও ইফতিখার আহমেদের তাণ্ডবে বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটিতে আরও অনেক কীর্তি-অর্জনের পথ ধরে রানের পাহাড় গড়ে ফরচুন বরিশাল সংগ্রহ করেছিল ২৩৯ রান। জবাবে রংপুর রাইডার্স ১৭১ পর্যন্ত গিয়ে হার মানে ৬৭ রানে।

রেকর্ড বইয়ে ঝড় তুলে বরিশালের জয়ের নায়ক ইফতিখার। তার পাশে কম যাননি সাকিবও। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন দুজনই। পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা গড়েন ১৯২ রানের বিশ্ব রেকর্ড।

জুটির রেকর্ড গড়ে অপরাজিত ইনিংসে ৪৫ বলে ১০০ রান করেন ইফতিখার। ৬ চারের সঙ্গে ৯টি ছয়ে সাজান নিজের ইনিংস।

দারুণ ছন্দে থাকা সাকিব করেছেন ৮৯ রান। এই সংস্করণে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ৮৬ রান। ৯ চার ও ৬ ছয়ের ইনিংসে সেটিকে ছাড়িয়ে গেলেন বরিশাল অধিনায়ক।

বিশাল লক্ষ্যের জবাবে খেলতে নেমে রংপুরের ওপেনার রনি তালুকদার ব্যক্তিগত ১১ রানে রান আউট হয়ে বিদায় নেন। এরপর তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও ফেরেন মাত্র ১ রান করেই। আরেক ওপেনার সাইম আয়ুবও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ, ফিরে গেছেন ১৮ রান করে। অধিনায়ক শোয়েব মালিকও এদিন নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। মাত্র ৯ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। 

এছাড়া নাইম শেখ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। দ্রুত ১৮ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। শেখ মেহেদীও পারেননি টিকে থাকতে, ফিরেছেন ২ রান করে। এরপর অবশ্য মোহাম্মদ নাওয়াজ এবং শামীম পাটোয়ারি মিলে গড়েন ৫৭ রানের জুটি। তবে ৩৩ করে নাওয়াজ ফিরলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন শামীম। ২৪ বলে ঝোড়ো ৪৪ রানের এক ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম চার ওভারে ৩০ রান তুলে বরিশাল। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই এনামুল হক বিজয়ের উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ। সমান ১ চার ও ছক্কায় ৮ বলে ১৪ রান করে সায়েম আয়ুবীর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। ওই ওভারেই আরও একটি উইকেট তুলে নেন রউফ। এবার ৩ বলে ০ রান করা ইবরাহিম জাদরানের দারুণ এক ক্যাচ নেন নাঈম শেখ।  

পরের ওভারে এসে জোড়া উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ষষ্ঠ ওভারে প্রথমে ২০ বলে ২৪ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট নেন তিনি। এরপর মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বরিশাল।  

কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদ ঝড় তুলেন রীতিমতো। এর মধ্যে ইফতেখারের ক্যাচ ফেলেন রনি তালুকদার। সাকিব-ইফতেখার মিলে এরপর বন্যা বইয়ে দেন বাউন্ডারির।  

৯ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮৯ রান করেন সাকিব, শেষ ৩৯ রান তিনি করেছেন কেবল ১০ বলে। ৬ চার ও ৯ ছক্কায় ৪৫ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইফতেখার। প্রথম হাফ সেঞ্চুরির জন্য ২৯ বল খেলেনে তিনি, পরের পঞ্চাশ রান আসে ১৬ বলে।  

তাদের ১৯২ রানের জুটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটের সেরা জুটি। বরিশালও পায় বড় সংগ্রহ। রংপুরের পক্ষে ৪ ওভারে কেবল ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হারিস রউফ।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২৩

X