alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস ডাকছে সাবিনাদের, সানজিদার লেখায় আশায় বুক বেঁধেছে দেশ

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:২৭ পিএম

ইতিহাস ডাকছে সাবিনাদের, সানজিদার লেখায় আশায় বুক বেঁধেছে দেশ
alo

 

পার্থ প্রতীম নন্দী: নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের মেয়ে ফুটবলারদের আজ ইতিহাস গড়ার দিন। মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম শিরোপার সেই দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা যেন হাতছোঁয়া দূরত্বে। সোমবার স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ফাইনল ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া পাঁচটায়।

ছেলে কিংবা মেয়ে- বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাফল্য নেই বহু বছর। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের সাফল্যের জয়গান গাইছে এই মেয়েরা। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল মারিয়া মান্দা-মনিকা চাকমাদের চোখ ধাঁধানো ফুটবলেই। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সিনিয়র সাফে এবার ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ভারত ও ভুটানকে একই ছন্দে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা মঞ্চে পা রাখা সাবিনাদের আত্মবিশ্বাস অনেক তুঙ্গে।

যদিও এতটা সহজ হবে না এই পথ পাড়ি দেওয়া। কারণ নেপালের বিপক্ষে সাবিনারা যে জেতেননি কখনো। মুখোমুখি ৮ ম্যাচে হার ৬টিতেই, ড্র দুটি। এছাড়াও এবার নিয়ে পঞ্চমবার সাফের ফাইনালে খেলছে নেপাল। আগের প্রতিবারই ভারতের কাছে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তারা।
নেপালের অধিনায়ক আঞ্জিলা থাম্বাপো সুব্বারও শিরোপা জিততে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার ভারতের সঙ্গে জিতেছি। আমরা উপভোগ করেছি। আমরা কথা বলতে চাই না। মাঠের খেলাতেই প্রমাণ করতে চাই।’

ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে থাকা দুই দলের মধ্যে নেপালের শক্তির জায়গা খেলা হবে তাদের মাঠে, ফলে সমর্থকদের পাশে পাবে তারা। ভারত ম্যাচে হাজার সাতেক দর্শকের চিৎকারে-উল্লাসে অনিতা-গীতাদের উজ্জীবিত করে রেখেছিল সারাক্ষণ।

নেপালী দর্শক নিয়ে প্রশ্ন হতেই বাংলাদেশ কোচ ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দিলেন দারুণ উত্তর, ‘আমার পেছনেও ১৮ কোটি বাংলাদেশি আছে।' ফাইনালের আগে তাই আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই বাংলাদেশ শিবিরে।

আর ফাইনালের ঠিক আগেই বাংলাদেশের হয়ে লড়ে যাওয়া ফুটবলার সানজিদা আক্তার একটা আবেগঘন স্টেটাস দেন তার নিজের ফেইসবুকে। তার লেখার মূল কথা হলো আজ ম্যাচ জিততে হবে। এই ম্যাচে জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সকল আলোচনা সমালোচনার জবাব দিতে চান সানজিদারা। এরই মধ্যে তার এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়।

সানজিদা লিখেন ‘২য় বারের মতো সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রথমবার ফাইনাল খেলেছি ২০১৬ সালে। সেবার ভারতের বিপক্ষে আমরা হেরে যাই। ৫ বার সাফের মঞ্চে এসে ১ বার রানার্সআপ, ৩ বার সেমিফাইনাল এবং ১ বার গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছি আমরা। 

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এবার মাঠে দারুণ ছন্দে রয়েছি, ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। স্বাগতিক হিসেবে ফাইনাল খেলা কিংবা স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলা সবসময় রোমাঞ্চকর। এছাড়াও এবারের ফাইনাল ম্যাচটি কিছুটা ভিন্ন। বহুদিন পর সাফ পাবে নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দেশ। আর তাই এবার রোমাঞ্চকর একটি ফাইনাল ম্যাচ হতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

তিনি আরো লিখেন, বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের হাত ধরে ২০০৩ সালে দক্ষিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিলো বাংলাদেশ। এখনো আমরা সেই গল্প শুনি। বাংলাদেশ ফুটবলের বড় সাফল্যের মহাকাব্যে সেটি উজ্জ্বলতম অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার আমাদের জেতার সময় এসেছে। আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য এটি জিততে মুখিয়ে আছে।’ 

তার লিখায় উঠে আসে সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলার কথা।  

তিনি লিখেন, ‘যারা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই সকল স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থণের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনী কে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরো নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই। 

পাহাড়ের কাছাকাছি স্থানে বাড়ি আমার। পাহাড়িদে ভাইবোনদের লড়াকু মানসিকতা, গ্রাম বাংলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের হার না মানা জীবনের প্রতি পরত খুব কাছাকাছি থেকে দেখা আমার। ফাইনালে আমরা একজন ফুটবলারের চরিত্রে মাঠে লড়বো এমন নয়, এগারোজনের যোদ্ধাদল মাঠে থাকবে, যে দলের অনেকে এই পর্যন্ত এসেছে বাবাকে হারিয়ে, মায়ের শেষ সম্বল নিয়ে, বোনের অলংকার বিক্রি করে, অনেকে পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন হয়ে। 

আমরা জীবনযুদ্ধেই লড়ে অভ্যস্ত। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাবো। জয় - পরাজয় আল্লাহর হাতে। তবে বিশ্বাস রাখুন, আমরা আমাদের চেষ্ঠায় কোনো ত্রুটি রাখবো না ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X