দেশে ৬ মাসে কোটিপতি বেড়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ জন

নিউজনাউ ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাস দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, এ কথা সত্যি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও দেশে কোটিপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটাকে ঠিক ইতিবাচক বলা যায় না, কারণ এই পরিস্থিতি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়িয়েছে। এছাড়াও ধনীদের দ্বারা সম্পদ বেশি আহরণেরও ইঙ্গিত এটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেলো বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ১ কোটি টাকার বেশি জমা অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮৬৫টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৯০টিতে। যা এপ্রিল শেষে ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। অথচ এই সময়টাতেই দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণও সেপ্টেম্বর শেষে ৩৮ হাজার ২ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৬ মাস আগেও এসব অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বিবেচনা করলে ১১ কোটি ২৭ লাখ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে কোটিপতি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা শূন্য দশমিক ০৭৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এসব অ্যাকাউন্টধারীদের আমানতের পরিমাণ মোট আমানতের ৪২ শতাংশ বা ১৩ লাখ ১২ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। অপরদিকে ১০ কোটি ৪ লাখ বা ৮৯ শতাংশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭৫ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা বা মোট আমানতের ৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, এটা স্পষ্ট যে দেশে আয়ের বৈষম্য দীর্ঘকাল ধরেই বেড়েছে এবং ভাইরাসের প্রকোপ পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। মন্দার কারণে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আয়ে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে ধনীরা আরও ধনী হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানাচ্ছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ১ হাজার ৪৫৩টি বেড়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ বেড়েছে ১২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে এসব অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার অর্থের পরিমাণ ৫ ধাপ অগ্রগতি হয়ে ৩ গুণ বেড়েছে।

২০০৯ সালের মার্চে কোটি টাকার বেশি জমা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৬৩৬টি এবং অ্যাকাউন্টগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৯ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের মতে, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের কারণে দেশে দরিদ্র বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ১ বছর আগে দেশে দরিদ্র ছিল ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। নগরের দরিদ্র অবশ্য লাফিয়ে বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত বছরের জুনের সমীক্ষায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাস মহামারির বিরূপ প্রভাবের কারণে ২০২০ সালে দরিদ্র বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। ২০১৬ সালে দেশে দরিদ্রের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, আয়-বৈষম্য পরিমাপকারী গিনি সহগ’র হিসাবে চার বছর আগের ২০১৬ সালের তুলনায় (শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ) ২০২০ সালে আয়-বৈষম্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশে।

করোনা মহামারির মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য একটি বৈশ্বিক ঘটনা বলা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত ইঙ্গিত দেয় যে সমাজের ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ জমে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দরিদ্ররা আয়ের ক্ষয়ক্ষতি দেখেছে। কারণ ধনী ব্যক্তিরা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সমর্থন পেয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকে এ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেছে এবং দরিদ্র লোকেরা এ জাতীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্য কমানোর জন্য উপযুক্ত নীতিমালা না হওয়ায় দেশে বৈষম্য কমবে না বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

দীর্ঘদিন ধরে চলতি নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে তাতে বৈষম্য বাড়ছে যা প্রকৃতিগতভাবে বৈষম্যমূলক। ফলস্বরুপ করোনা মহামারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: বাংলা নিউজ
নিউজনাউ/এসএইচ/২০২১

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...
বেসরকারি হাসপাতালের সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল-দেশে করোনায় মৃত্যু ৮, নতুন শনাক্ত ৩৮৫-সংঘর্ষ, বর্জনে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা-তামিম-রিয়াদরা দ্বিতীয় কোভিড টেস্টেও নেগেটিভ-মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬-মমতাকে উৎখাতের হুঙ্কার দিয়ে ব্রিগেড শুরু-কার্টুনিস্ট কিশোরের রিমান্ড নামঞ্জুর-‘শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর’-মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু