alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগে সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৬:২২ পিএম

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগে সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
alo

 

কাউছার আলম, পটিয়া: দীর্ঘ এক দশক পর আগামী ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। গত ২৮ অক্টোবর গণভবনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। 

দফায় দফায় সন্মেলনের তারিখ নির্ধারন করা হলেও পরপর চারবার পেছানোর পর এবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে জেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে।

সম্মেলন ঘিরে কমিটিতে ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতি শেষে আওয়ামী লীগে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা দলের ত্যাগী নেতাদের মাঝেই সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে সভাপতি পদে এবার আলোচনায় আছেন বর্তমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমদ, জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, চন্দনাইশ উপজেলার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক আবু সুফিয়ান। 

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, আনোয়ারার শাহজাদা মহিউদ্দিন, বোয়ালখালীর আবদুল কাদের সুজন, পটিয়ার প্রদীপ দাশ ও স্বাচিপ নেতা ডাক্তার আ ম ম মিনহাজুর রহমান সাতকানিয়ার। 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগে দীর্ঘকাল সভাপতি হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতি ও কূটনীতিবিদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আতাউর রহমান খাঁন কায়সার। ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম প্রতিনিধি।

২০১০ সালের ৯ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুঃসময়ের প্রাণপুরুষ প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু আসীন হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে।

২০১২ সালের ৪ নভেম্বর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু'র মৃত্যুর পর তার কমিটির দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমানকে সভাপতি করে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তবে গত ১০ বছরে দক্ষিণের ৭টি উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে (উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন) দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে নয়ছয়, দলীয় পদ-পদবী প্রদানে দেদার বাণিজ্য ঘরে-বাইরে বিতর্কিত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে। এতে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দলের হাইকমান্ডেও। নানা মাধ্যমে সংগৃহীত ‘আমলনামাথর বিচারেই' আগামী ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। 

এদিকে গুঞ্জন আছে এবারের সন্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদটি বহাল রেখে অন্যান্য পদ পদবী গুলোতে আসতে পারে নতুন নতুন মুখ।

বর্তমান সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদসহ সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন প্রবীন রাজনৈতিক দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, চন্দনাইশ উপজেলার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সুফিয়ান সাতকানিয়ার। 

জানা গেছে, সভাপতি হিসেবে একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর কথাই ভাবছে উপর মহলের একটি বড় অংশ। চন্দনাইশ থেকে দলের ৫ বার মনোনয়ন পেয়ে তিনবার এমপি হন নজরুল ইসলাম চৌধুরী। ভদ্র, সজ্জন ও পরিমিতবোধের মানুষ হিসেবে কেন্দ্রেও আছে তার সুনাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্যক্তিগতভাবে তাকে পছন্দ করেন।

অন্যদিকে, সর্বাগ্রে এগিয়ে রয়েছে সিনিয়র সাংবাদিক আবু সুফিয়ানের নাম। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ৬ বারের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সভাপতি আবু সুফিয়ান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য গেলবারেই অনেকটা এগিয়ে ছিলেন।

কিন্তু শেষপর্যন্ত মফিজুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে আসায় প্রধানমন্ত্রী আবু সুফিয়ানকে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করেন। দুই মেয়াদে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চীনসহ একাধিক দেশে প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গী করেন তাকে। চীনের সফর-অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ লিখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে উৎসর্গ করা গ্রন্থটি আবু সুফিয়ান গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই তুলে দেন। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের স্বজন খ্যাত আবু সুফিয়ানের জন্য আগামীর দক্ষিণ জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অপেক্ষা করছে এমন তথ্য মিলেছে নীতি-নির্ধারণী মহলের সাথে আলোচনায়।

প্রবীন রাজনৈতিক পটিয়ার মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে এসে একবার পরাজিত হওয়ার পর পরের বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি পেয়ে সন্মানিত হয়েছেন। মোসলেম উদ্দিনের সমবয়সী মোতাহেরুল ইসলাম ও চেয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিংহাসনটিতে আরোহনের।

জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান নিউজনাউকে বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর সোমবার চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সন্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে আমাদের সকল ধরনের প্রস্ততি শুরু হয়ে গেছে। আমি আশাকরি সবকিছু সুন্দর ও সফল হবে।

এদিকে সাধারন সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন আনোয়ারা সন্তান শাহজাদা মহিউদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করা শাহজাদা মহিউদ্দিন সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালকও।

এ ব্যাপারে শাহজাদা মহিউদ্দিন নিউজনাউকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশ-নির্দেশ শিরোধার্য মেনেই রাজনীতি করি। তিনি যখন যে অবস্থায় কাজ করতে বলবেন, দায়িত্ব দেবেন যথাযথভাবে সে দায়িত্ব পালনে আমি বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধুর ইস্পাত-কঠিন আদর্শিক পথে হেঁটে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে শক্তিশালী করাই আমার ধ্যানজ্ঞান, জনমানুষের জন্য কাজ করাই আমার রাজনীতির ব্রত।


দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ পটিয়ার সন্তান। তিনি এবারের সন্মেলনে লড়বেন সাধারণ সম্পাদক পদে। ছাত্র জীবন থেকেই তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। চট্টগ্রাম সরকারি কর্মাস কলেজ থেকে বি কম পাশ করার পর মাস্টার্সের পড়া অবস্থায় জেলে যেতে হয় এ নেতাকে। এরপর আর এম কম ফাইনাল পরীক্ষার টেবিল বসা হয়নি তার। তার পিতা ডাক্তার শৈবাল কান্তি দাশ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ৬৩ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ কলেজ, চট্টগ্রাম মহানগর এবং জেলা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সুনামের সাথে ছাত্র জীবনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেন। তার দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোন ধরনের অপবাদ নেই। তাই এবারের জেলা আওয়ামী লীগের সন্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনিও এখনো পর্যন্ত এগিয়ে আছেন। 

এক সময়ের তুখোড় সাবেক ছাত্রনেতা বোয়ালখালীর সন্তান আবদুল কাদের সুজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠ স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এরপর উপজেলা, জেলা, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন সুনামের সাথে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের। 

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা ডাক্তার আ ম ম মিনহাজুর রহমানও আছেন বেশ আলোচনায়। প্রয়াত চট্টগ্রামের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুথর অনুসারী এ চিকিৎসক চট্টগ্রাম মহানগর ও তার নিজ উপজেলা সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বেশ পরিচিত এ পেশাজীবি নেতা। 

ডা. মিনহাজুর রহমান নিউজনাউকে বলেন, আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্বোধন করে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু পরবর্তী কোন সভায় আমাকে আর কোন সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তারপরও আওয়ামী লীগের যাবতীয় কর্মকান্ডে, নিজ এলাকার দলীয় সাংগঠনিক ও সকল নির্বাচনী কর্মকান্ডে নিরলস কাজ করে গেছি, দলের প্রতি সর্বোচ্চ সম্ভব আনুগত্য প্রদর্শন করে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছি।

নানান সমীকরণ সামনে রেখে এগোচ্ছে আগামী ১২ ডিসেম্বরের দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন। আর তাই চূড়ান্ত সমীকরণটা মেলাতে অপেক্ষা করতে হবে নতুন কমিটি হওয়া অবধি।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X