alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

'খেলা চলছে মানুষের আহার নিয়ে, খাদ্য নিয়ে'

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:২১ পিএম

'খেলা চলছে মানুষের আহার নিয়ে, খাদ্য নিয়ে'
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের ফিউচার টেনসে বলেন— খেলা হবে। কিন্তু খেলা তো চলছে মানুষের আহার নিয়ে, খাদ্য নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে। এসব দেশের জনগণ দেখছে। এটিও আপনাদের খেলার অংশ। এর হিসাব কিন্তু আপনাকে একদিন দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনের মুক্তি দাবিতে এ মানববন্ধন হয়। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওবায়দুল কাদের, শেখ সেলিম সাহেব বলে দিয়েছেন, শেখ হাসিনা কার কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন। আবারও সেটা হতে পারে। সুতরাং ওবায়দুল কাদের যখন বলবেন খেলার কথা, তখন শেখ হাসিনা আপনিও সাবধান হয়ে যান। ওবায়দুল কাদের কিন্তু বিপদে পড়লে আপনার বিরুদ্ধেও খেলা দেখাবে।

রিজভী আরো বলেন, আগামীকাল সিলেটের গণসমাবেশের জন্য গতকাল হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বিএনপি অফিসে প্রস্তুতি সভা চলছিল। সেই অফিসের মধ্যে ঢুকে লাঠিচার্জ করে, গুলি করে হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গউছসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এটাও তো খেলার অংশ।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ যাতে সফল না হয়, তাই বাস-মিনিবাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তারপরও মানুষ অটোরিকশা, করিমন, নসিমন, ভটভটি, সাইকেল, নৌকা, ট্রলারে করে জোয়ারের পানির মতো সমাবেশে ছুটে আসছে।

বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে খেলা দেখাচ্ছে। বিদ্যুতের নাকি বন্যা বয়ে গেছে। বড় বড় রাস্তাঘাট, উড়ালসেতু কত উন্নয়ন। মানুষের আয় নাকি বেড়েছে। এখন সে আয়, উন্নয়ন গেল কোথায়। প্রধানমন্ত্রী একবার বলছেন দুর্ভিক্ষ হবে, আবার বলছেন হবে না। মানুষের আয় যদি বেড়েই থাকে তাহলে কেন দুর্ভিক্ষ হবে?

দুর্ভিক্ষ বর্তমানে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩০ টাকায় সরকারি চাল দেওয়ার ট্রাক যে জায়গায় গিয়ে থামে, সেখানে মানুষ দীর্ঘ লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। এটাইতো দুর্ভিক্ষের আলামত। ওবায়দুল কাদের বলছেন খেলা হবে ভবিষ্যতে। বর্তমানেই তো তিনি যে খেলা দেখাচ্ছেন মানুষের আহার ও খাদ্য নিয়ে। মানুষ সে খেলা দেখছে। মানুষ ভোগান্তিতে আছে। এর হিসাব কিন্তু ওনাকে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি আজকের এ প্রতিবাদ সভায় কামরুজ্জামান রতনের নিঃস্বার্থ মুক্তি দাবি করছি। ছাত্রজীবন থেকে সংগ্রাম করে আসা কামরুজ্জামান রতনকে আপনারা গ্রেফতার করেছেন, যাতে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে লোকজন কম হয়। কিন্তু এটা আপনাদের ভুল পলিসি। বরং কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করার কারণে মুন্সীগঞ্জে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, জনগণ আরো ভালোভাবে সংগঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে ও আবদুল কুদ্দুস ধীরেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হক, আলী আজগর রিপন মল্লিক, শহীদুল ইসলাম শহীদ, যুবদলের সোহেল আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলসহ মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদরা।  

এ সময় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, মহিউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, শাহ আলম ও এসএম জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।
নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 
 

X