alo
ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের কার্যনির্বাহী সভা, আসতে পারে সম্মেলনসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:৩৮ পিএম

আ.লীগের কার্যনির্বাহী সভা, আসতে পারে সম্মেলনসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
alo

 

রিগান ভূঁইয়া: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক কে হবেন -এই নিয়ে চলছে জোড়ালো আলোচনা। এরই মধ্যে ‘কর্মপন্থা নির্ধারণের’ আজ শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এমন সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে যখন বিএনপি সারাদেশে মহাসমাবেশ করছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে আজকের এই বৈঠকে রাজনীতির মাঠ মূল্যায়নের পাশাপাশি সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে উপ-কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগও নিজেদের নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনাও আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বৈঠকে দলের সম্মেলনসহ বেশ কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে জনসভা, বিভাগীয় সমাবেশ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনেরও তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃণমূল নেতাদের কথা শুনতে গণভবনে ধারাবাবাহিক বৈঠক করতে পারেন। সেটিরও রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে বৈঠকে। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে যে ৩২টি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে তাদের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা থাকতে পারে।

এদিকে এবারের জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের বাইরে সরাসরি ভোটে অন্তত নয়টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এই ভোটেও দ্বন্দ্ব-কোন্দল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দ্বন্দ্বেও ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দ্বন্দ্বের বিষয়টাও আলোচনায় আসবে। বিভিন্ন স্থানে কোন্দল মিটিয়ে নতুন রূপে কীভাবে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করতে হবে, এই নির্দেশনাও বৈঠক থেকে আসবে।

আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখনও ৩৩ জেলার সম্মেলন বাকি। আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এসব জেলার সম্মেলন শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলনের তারিখও ঘোষণা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ইউনিট, ওয়ার্ড-থানা সম্মেলন শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

তবে সকল আলোচনা পেছনে ফেলে যা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে কে হচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক। 

টানা দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি আবারও থাকছেন নাকি পরিবর্তন আসছে এই নিয়ে আলোচনা এখন আওয়ামী লীগের ভেতরে। যদিও টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড কারো নেই। 

আর এই ধারণা থেকে সাধারণ সম্পাদক পদের আশায় বেশ কয়েকজন নেতা তৎপরও হয়েছেন। তবে ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে দায়িত্ব পান বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আবার এই পদে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী বলে জানা যায় দলের বিভিন্ন নেতাদের কাছ থেকে।

এছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড: আব্দুর রাজ্জাকের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনিও আগ্রহী বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমানও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এছাড়া দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড: হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির নামও আলোচনায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক কে-এ ব্যাপারে অতীতে তাদের দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মেলনের কিছু দিন আগে ইঙ্গিত দিতে দেখা গেছে। মনে করা হচ্ছে এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যদিও এবার এখনও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো ইঙ্গিত আসেনি।

এখন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলকে নিয়ন্ত্রণ বা ঐক্যবদ্ধ রাখা-এই বিষয়টি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনার অগ্রাধিকারে থাকবে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে হয় দলের সাধারণ সম্পাদককে। ফলে এই বিষয়টিও সাধারণ সম্পাদক পদের ক্ষেত্রে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

দলটির সভাপতি হিসাবে ৪১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। দলের শীর্ষ পদে অন্য কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নজির নেই। এমন কি সভাপতি পদে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তাই শেখ হাসিনা এবারও সভাপতি পদে থাকছেন এটা নিশ্চিত।

নিউজনাউ/আরবি/পিপিএন/২০২২

X