alo
ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টিতে ফের ভাঙনের সুর, প্রকাশ্যে দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২২, ০১:৩৮ পিএম

জাতীয় পার্টিতে ফের ভাঙনের সুর, প্রকাশ্যে দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই বলয়ের অন্তঃকলহ দিন দিন বাড়ছে। দলের নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে পার্টিতে আবারও ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদপন্থিরা ২৯ নভেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। আর জি এম কাদেরপন্থিরা কাউন্সিল ঠেকাতে তৎপর। এ নিয়ে এরই মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসিউর রহমান রাঙ্গাও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপেক্ষাকৃত দুর্বল রওশনপন্থিরা যদি সরকারের সমর্থন পায় তাহলে রওশন এরশাদ দেশে ফিরে এসে সম্মেলন করতে চাইলে আবারও ভাঙবে জাতীয় পার্টি।

সাম্প্রতিক টানাপড়েন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলে কোণঠাসা নেতারা জি এম কাদের এবং বিরোধীরা রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়েছেন। পার্টির ভেতরে সর্বশেষ দ্বন্দ্বের পেছনেও কোণঠাসা বোধ করা নেতারা রয়েছেন বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ। পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই অংশটিকে তৃতীয় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের শীর্ষ একজন নেতা বলেন, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে জাপায় দুটি বলয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে হন বিরোধীদলীয় উপনেতা। সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়, সে অনুসারেই সবকিছু চলছিল।

তবে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকাকালে দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন রওশন এরশাদ। জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা তার খোঁজ না নেওয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন। এ সভায় দলে মধ্যে কোণঠাসা নেতারা উপস্থিত থাকলেও পার্টির মূল দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রওশনের এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রওশনকে দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৯ নভেম্বর সম্মেলনের আহ্বান করার পাশাপাশি দলটির নিষ্ক্রিয়, ত্যাগী, বঞ্চিত ও বিভিন্ন দলে চলে যাওয়াদের জাপায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সম্মেলন ডাকার এখতিয়ার নেই রওশন এরশাদের।

সম্মেলন ডাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে সরাতে দলের ২৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। দলটির প্রেসিডিয়াম সভাও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। এখন বাকি প্রক্রিয়া স্পিকারের।’

সংসদে সরকারদলীয় একজন হুইপের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। জাতীয় পার্টিতে সৃষ্ট সমস্যা মিটে যেতে পারে বলেও দাবি করেন ওই হুইপ।

অন্যদিকে জি এম কাদেরপন্থিরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে। সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় রওশনপন্থিদের কাউন্সিল ঘিরে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শিগগির।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৯ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। পার্টির সংসদীয় দল স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ, বিস্মিত। বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

এ বিষয়ে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘রওশন এরশাদকে বুঝিয়ে তৃতীয় একটি পক্ষ সুবিধা করার চেষ্টা করছে, যা আমাদের দলের চেয়ারম্যানও বলেছেন। কিন্তু তারা সুবিধা করতে পারবে না।’

এই তৃতীয় পক্ষ কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা তার (রওশন) পাশেই থাকেন। তিনি দেশে এসে হোটেল ওয়েস্টিনে যে সভা করছিলেন, সেই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন, তারাই হলেন সেই তৃতীয় পক্ষ।’

জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, কোনোভাবেই জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হবে না। শুধু যদি তিনি (জি এম কাদের) রওশন এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন, তাহলেই মীমাংসা হওয়া সম্ভব।

এদিকে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গত ১৫ সেপ্টেম্বর দলটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির শক্তি বেড়েছে দাবি করেন। তিনি বলেন, দল থেকে কেউ চলে গেলেও জাতীয় পার্টি থাকবে। দল দলের জায়গায় থাকবে। দল ভাঙবে না। রওশন এরশাদকে দলের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। রওশন এরশাদই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X