alo
ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জে দিনে ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৯:৪৭ এএম

অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জে দিনে ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: বাংলাদেশে সাত শতাধিক মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে নানা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগে বৈধতা হারিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিয়ে দেশে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা পরিচালনা করছে ২৩৫টি  প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে হাজারেরও বেশি মানি এক্সচেঞ্জ। 

অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলোর নেপথ্যে রয়েছে অনেক রাঘববোয়াল। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলোর তালিকা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯টি দেশের ১ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৬ টাকা জব্দ করা হয়। দেশে ডলার সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর পাঁচ স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি। এর মধ্যে তিনটি অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ অফিস হলো গুলশানের জে এম সি এইচ প্রাইভেট লিমিটেড, মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারের আলম অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং উত্তরার আশকোনা মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের তৈমুর মানি এক্সচেঞ্জ। বাকি দুটি ফেরারি প্রতিষ্ঠান। দেশে এমন এক হাজার অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এক হাজারের বেশিও হতে পারে বলে ধারণা সিআইডির।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন ৭৫০ কোটি টাকা সমমূল্যের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। আনুমানিক এ হিসাবে সংখ্যাটি মাসে ২২ হাজার ৫০০ কোটিতে দাঁড়ায়। এ পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ সংকটে খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তারপরও দিনের পর দিন দর চড়তে থাকার পেছনে মানি এক্সচেঞ্জগুলোর কারসাজির অভিযোগ ওঠে। এ অস্থিরতার মধ্যে সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, দেশে অনুমোদিত ২৩৫টির বাইরে আরও ৭০০ মতো মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। ওই সময় সিইআইডি মানি এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার কথাও জানিয়েছিল।

 

 

দিনে ৭৫০ কোটি টাকার লেনদেন অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে

এরপর বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্য নিয়ে মানি এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে সিআইডি। গত সোমবার রাজধানীর পাঁচটি এলাকার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। এ সময় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আবু তালহা তাহারত ইসলাম তোহা (৩২), আছাদুল শেখ (৩২), হাছান মোল্যা (১৯), আবদুল কুদ্দুস (২৪), হাসনাত এ চৌধুরী (৪৬), মো. শামসুল হুদা চৌধুরী রিপন (৪০), মো. সুমন মিয়া (৩০), তপন কুমার দাস (৪৫), আবদুল কুদ্দুস (৩২), কামরুজ্জামান রাসেল (৩৭), মো. মনিরুজ্জামান (৪০), মো. নেওয়ারা বিশ্বাস, মো. আবুল হাসনাত (৪০) ও মো. শাহজাহান সরকার (৪৫)। তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৬ টাকা সমমূল্যের ১৯টি দেশের মুদ্রা ও ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৬ টাকা নগদ জব্দ করা হয়।

গতকাল বুধবার মালিবাগ সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠান সারা দেশে রয়েছে। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তারা প্রতিদিন প্রায় ৭৫ লাখ টাকা লেনদেন করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে। এই ৭৫ লাখ টাকার মধ্যে কত টাকা হুন্ডি বা পাচার হয় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে।

তিনি বলেন, অভিযানে অবৈধ পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জের মধ্যে তিনটির কার্যালয় পাওয়া গেছে। বাকি দুটি ‘প্রতারণামূলক বা ফেরারি’। তারা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানি এক্সচেঞ্জ করতেন। ফোনে ফোনে যোগাযোগ করেই তারা বিভিন্ন দেশের মুদ্রা লেনদেন করতেন। তারা হুন্ডির সঙ্গেও জড়িত।

সাধারণ মানুষ যদি এভাবে ডলার পেয়ে যায় তাহলে কেন ব্যাংকে যাবে, যেখানে ব্যাংকে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সেবার মান বাড়ানোর কোনো তাগিদ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিআইডি প্রধান বলেন, যারা প্রবাসী তারা দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাসায় বসেই টাকা পাঠায়। এ ক্ষেত্রে সময় বাঁচে ও কোনো হয়রানি বা বাড়তি কোনো ভাড়া লাগে না বলেই আগ্রহী হয়। দেশের মানুষ ঘরে বসে টাকা পেয়ে যায়। তবে এটা অবৈধ।

 

নিউজনাউ/কেআই/২০২৩

X