নতুন নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত ১১ মাস ধরে করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সংক্রমণ কমে আসায় দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি উঠেছে। তাই, শীত মৌসুম শেষে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সেই উদ্যোগ সফল করতে এবার গাইডলাইন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইন বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়ামাত্র শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে।

‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুকরণ’ শীর্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতে নির্দেশিকাটি সব মাধ্যমিক, স্কুল ও কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরযুক্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গাইডলাইনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, ক্লাসরুমের বেঞ্চগুলোকে তিন ফুট দূরত্বে স্থাপন করতে হবে। বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম হলে প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে এবং পাঁচ থেকে সাত ফুট দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করতে পারবে। স্কুলে প্রবেশের আগেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিফটিং পদ্ধতিতে ক্লাস, প্রথম ১৫ দিন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি এবং দুই মাসের মধ্যে কোনো পরীক্ষা না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়। ৩৮ পৃষ্ঠার নির্দেশনাটি ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়।

কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

নির্দেশিকায় বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে থেকে পুনরায় চালু হবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার ঘোষণা করবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালুর আগে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এবং প্রতিষ্ঠান এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হলে সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেবে কিনা তা পর্যালোচনা করতে হবে। চালু করতে হলে কী কী পদক্ষেপ, তাও জানতে হবে।

সংক্রমণের বিস্তার রোধে ব্যবস্থা:

কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সময় সবার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষার্থীরা যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলাফেরা করতে পারে এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থারও পরিকল্পনা নিতে হবে।

নিরাপদ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কতজনকে একই শিফটে এনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে তা পরিকল্পনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করে বসাতে হবে। শিক্ষার্থীর চাহিদা ও অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে এবং প্রতিষ্ঠানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে হবে।

আনন্দঘন শিক্ষা কার্যক্রম:

দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে তা থেকে মুক্ত করার জন্য নিরাপদ ও আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ১৫ দিন শিক্ষা কার্যক্রম কেমন হবে, কতটা সময় শিখন কার্যক্রম এবং কতটা সময় মনোসামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকবে তার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রথম এক বা দুই সপ্তাহ পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিখনের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মনোসামাজিক সহায়তা এবং মানসিক ও শারীরিক কার্যক্রমের মধ্যে খেলাধুলা, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, গাছ লাগানো ও পরিচর্যা, সংগীত চর্চা, ছবি আঁকা, সামাজিক সেবামূলক কাজ করতে নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রথম দুই মাসের মধ্যে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা বা মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা যাবে না, যা শিক্ষার্থীর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুতকরণ:

পরিকল্পনামাফিক প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক প্রয়োগসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্ব বণ্টন, নির্দিষ্ট সময় পর পর ২০ সেকেন্ড ধরে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা এবং দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে এ সংক্রান্ত পোস্টার। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকর্ষণ বাড়াতে প্রতিষ্ঠান ভবন রং করা, বিভিন্ন ছবি দিয়ে শ্রেণিকক্ষ ডেকোরেশন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম ১৫ দিন কোনো একটি শ্রেণি কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষা কার্যক্রম একই সঙ্গে চালু করতে হলে কতটি শিফট প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রতিটি শিফটের জন্য কর্মঘণ্টা কতটুকু হবে তা নির্ধারণের পরিকল্পনাও নিতে হবে।

কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে ব্যবস্থা:

এক্ষেত্রে কন্টাক্ট লেস থার্মোমিটার স্থাপন এবং তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বাড়িতে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পথে ও অভিভাবকদের বসার স্থানে ৩ ফুট দূরত্বে করতে হবে মার্কিং। সবার জন্য মাস্কের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী মাস্কের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকেন। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে হটলাইন নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে।

পুনরায় চালু করতে প্রচারণা:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই স্কুলের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের জন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে লিফলেট বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে ‘নো মাস্ক নো স্কুল’ লিখে তা সবাইকে মানার নির্দেশ দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুকরণ:

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি শেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর তারিখ ঘোষণা করতে হবে। প্রথম দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে স্বাগত জানানো, যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসতে আগ্রহী হয়। আর প্রয়োজনীয় স্যানিটাইজেশনের উপকরণগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।
নিউজনাউ/এনএইচএস/২০২১

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...
বেসরকারি হাসপাতালের সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল-দেশে করোনায় মৃত্যু ৮, নতুন শনাক্ত ৩৮৫-সংঘর্ষ, বর্জনে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা-তামিম-রিয়াদরা দ্বিতীয় কোভিড টেস্টেও নেগেটিভ-মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬-মমতাকে উৎখাতের হুঙ্কার দিয়ে ব্রিগেড শুরু-কার্টুনিস্ট কিশোরের রিমান্ড নামঞ্জুর-‘শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর’-মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু