alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:৪৫ এএম

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়তে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিনটি কোম্পানি আবেদন করেছে। আগামী সপ্তাহে বাকি তিনটি কোম্পানি আবেদন করতে পারে। বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়াতে চায় বিতরণ কোম্পানিগুলো।

এর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছিলেন, এখনই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়বে না। কিন্তু এরই মধ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলো মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ানো হয়। ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণার ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর খরচ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে তিন বিতরণ কোম্পানি ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর প্রস্তাব পাঠিয়েছে। একই উদ্দেশে প্রস্তাব তৈরি করছে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। শিগগিরই তারা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা বিইআরসিতে পাঠাবে।

জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) আগামী রবিবার দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার শহর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) আবেদন জমা দিলেও তা বিধিসম্মত না হওয়ায় ফেরত দিয়েছে বিইআরসি। আগামী সপ্তাহে আবার জমা দেবে তারা। উত্তরাঞ্চলের শহর এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) আগামী সপ্তাহে দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিতে পারে।

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ কোম্পানিগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা ভোক্তার কাছে ‘মুনাফা না, লোকসান না’ নীতিতে বিদ্যুৎ বিক্রি করার কথা থাকলেও কেউ কেউ নিয়মিত মুনাফা করে।

এ বিষয়ে বিইআরসির বিদ্যুৎ বিষয়ক সদস্য বজলুর রহমান বলেন, আমরা কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাবনা পেয়েছি। পাইকারিতে দাম বাড়ানোর ফলে তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে, এই যুক্তিতে তারা মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। আমরা এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাব।

নিয়ম অনুযায়ী, বিইআরসিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হলে সেটা যাচাইয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হয়।

সে হিসাবে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে। পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে। বিদ্যুতের দাম যেহেতু প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, সেক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৪ বছরে দেশে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৯ বার। একই সময়ে পাইকারি পর্যায়ে ১১৮ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৯০ শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। সব৴শেষ দাম বাড়ানো হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যা ওই বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হয়। ওই সময় পাইকারি পর্যায়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। আর খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিইআরসির সঙ্গে আলোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং মূল্যনির্ধারণের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান। ধারণা করা হচ্ছে, এরই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনে রিভিউ প্রস্তাব পাঠায় পিডিবি। এ রিভিউ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X