alo
ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: আফ্রিকা থেকে দুই আসামিকে ফেরাতে চায় সরকার

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২২, ১০:০৫ এএম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: আফ্রিকা থেকে দুই আসামিকে ফেরাতে চায় সরকার
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: বহুল আলোচিত ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম দুই পলাতক আসামি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। দুই আসামির মধ্যে একজন হচ্ছে মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন। দুই আসামিকে দেশে ফেরাতে চায় সরকার। এই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপমন্ত্রী মাসেগো ডিলামিনি।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) উপমন্ত্রী মাসেগো ডিলামিনির সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম রাষ্ট্রীয় একটি অতিথি ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুজন আসামি দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে আমরা জানি। এর মধ্যে একজনের অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানাতে চাই না। এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা পাব, এটি তারা নিশ্চিত করেছে।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলা মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মওলানা তাজউদ্দীনকে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে সাউথ আফ্রিকা। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম শিগগির দেশটিতে যাবেন।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকা সফররত দেশটির উপরাষ্ট্রমন্ত্রী কোয়াতি ক্যানডিথ দিয়ামিনির সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্তদের দুজন সাউথ আফ্রিকায় পলাতক রয়েছে। এর একজন সম্পর্কে আমরা শতভাগ নিশ্চিত। আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলেছি। সাউথ আফ্রিকা তাকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে।’

মাওলানা তাজউদ্দিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টুর ভাই। তারও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে এই মামলায়। তাদের আরেক ভাই রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু পেয়েছেন যাবজ্জীবন সাজা।

রাতুলও তাজউদ্দিনের সঙ্গে একই দেশে আছে বলে তথ্য পেয়েছে সরকার। তবে তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে এই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতা-কর্মী। নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করেন আওয়ামী লীগ নেত্রীকে।


এই হামলায় তাজউদ্দিনের সম্পৃক্ততার তথ্য সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই নিশ্চিত হয়। সে সময় তদন্তে উঠে আসে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারই তাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এরপর তিনি সেখান থেকে সাউথ আফ্রিকায় চলে যান।

হামলার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় দেয় বিচারিক আদালত। এতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তাজউদ্দিন, তার ভাই আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আরও ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

তাজউদ্দিনকে ফেরত পাঠাতে সাউথ আফ্রিকা রাজি হয়েছে বলে ২০১৮ সালের আগস্টে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। সেদিন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনদিয়া ফেকেতোর নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। তবে বিষয়টি চার বছরেও আর আগায়নি।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 

X