alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কাগজ সংকটে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে মুদ্রণ শিল্প

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:৪০ এএম

কাগজ সংকটে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে মুদ্রণ শিল্প
alo

 


নিউজনাউ ডেস্ক: দেশে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি রয়েছে চরম সংকটও। অপরদিকে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে পেপার মিল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় বছরের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কাগজের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। চাহিদামতো কাগজ না পাওয়ায় সংকটে পড়েছে মুদ্রণ শিল্প ও সংবাদপত্র। নতুন করে বেশকিছু পত্রিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

এদিকে খরচ কুলাতে না পেরে কোনো কোনো পত্রিকা আগের তুলনায় অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে অনেক কম ছাপিয়ে নিয়মিত প্রকাশনার ধারা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বেশকিছু পত্রিকা তাদের সার্কুলেশন বড় ধাপে কমিয়ে এনেছে। কোনো কোনো পত্রিকা পাতা কমিয়ে খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। এদিকে কাগজ ও প্রিন্টিং কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের উচ্চ মূল্য বৃদ্ধির বড় ধাক্কা মুদ্রণ শিল্পের পাশাপাশি প্যাকেজিং খাতেও লেগেছে। 

ওদিকে গত এক মাসে কাগজের দামও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সংবাদপত্র শিল্পের প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে দেখা দিয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে দেশি কাগজের মিলের এক টন কাগজের (প্রিন্টিং পেপার) রেট ১ লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে এখন ১ লাখ ৪০ হাজার বা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয়ে গেছে। আর লেখার ও বই ছাপার কাগজের রেট বেড়ে এখন প্রতি টন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

মুদ্রণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কাগজ। কাঁচামাল না হলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো সুযোগ নেই। কাগজ পাওয়ার পর কালি, প্লেট, গ্লু এসবও আমদানি করতে হয়। তবে ডলার সংকটে এসব কাঁচামাল আমদানিও করা যাচ্ছে না। এতে এই শিল্পে বড় ধাক্কা লাগার উপক্রম তৈরি হয়েছে। শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও করেছেন তারা। তাদের মতে, এখন অনেক প্রতিষ্ঠান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আগে যেখানে ১৮ ঘণ্টা চলতো এখন সেটা ৬-৭ ঘণ্টা চালাতে হচ্ছে। 

বাবুবাজারের কাগজ ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে এখন সব ধরনের কাগজের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে খরচ বেড়েছে। ব্যাংকগুলো থেকে চাহিদামাফিক এলসিও খোলা যাচ্ছে না। এতে প্রধান কাঁচামাল কাগজ তৈরির মণ্ড বা ভার্জিন পাল্প আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে কাগজ সংকটের পাশাপাশি দামও বেড়েছে। 

বাবুবাজারের কাগজ ব্যবসায়ী এস আর ট্রেডার্সের মালিক শফিকুর রহমান বলেন, এক মাস আগেও ২৮/৪৪ সাইজের ১০০ সিটের কাগজ ২২০০ টাকা বিক্রি হয়। এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ টাকায়। আর ২৩/৩৬ সাইজের ৫০০ সিটের খবরের কাগজের দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকার উপরে। বাজারে এখন অনেক চাহিদা। কিন্তু মাল না থাকায় দামও অনেক বেড়েছে। আমরাও ব্যবসা করতে পারছি না। 

বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের মনিরুল ইসলাম মামুন বলেন, পত্রিকার কাগজ এক মাস আগেও প্রতি টন ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন তা ৯০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অগ্রিম টাকা দিয়েও এখন কাগজ পাচ্ছি না। আর্ট পেপার ১৯০০ টাকা ছিল এখন ২৬০০ টাকা হয়েছে।

যে কাগজগুলো একটু উন্নত সেগুলো আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি। কিন্তু সেসব কাগজের দাম অনেক বাড়ছে। ডলারের দাম বাড়ছে এবং কাঁচামাল আমদানি করাই যাচ্ছে না। ফলে এগুলো এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

মুদ্রণ শিল্পের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে সংবাদপত্র শিল্পও। নিউজপ্রিন্ট কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়েছে অনেক। গত কয়েক মাস ধরেই প্রতিনিয়ত দাম বাড়ছে। ফলে সংবাদপত্র শিল্পের প্রকাশনা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। পুরাতন ওয়েস্টেজের দামও অনেক বেড়েছে বলে জানান সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গে জড়িতরা। 

সংবাদপত্র প্রকাশনা শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব ধরনের কাগজের দাম কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সংস্থাটির কার্যালয়ে গত জুনে চলতি অর্থবছরের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় জানানো হয়, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ শিল্পের টিকে থাকা কঠিন। নোয়াব সংবাদপত্র শিল্পের জন্য নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দেয়া অথবা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের দাবি করেছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

 

X