alo
ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

'নির্বাচনে যেতে অনেক বিএনপি নেতারা উদগ্রীব'

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২২, ০৯:০৭ পিএম

'নির্বাচনে যেতে অনেক বিএনপি নেতারা উদগ্রীব'
alo

নিউজনাউ ডেস্কঃ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না বললেও দলটির অনেকে নির্বাচনে যেতে উদগ্রীব। বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়টি গাধা জল ঘোলা করে খাওয়ার মতো ব্যাপার। ২০১৮ সালেও গাধা জল ঘোলা করে খেয়েছিল।

রবিবার (৬ নভেম্বর)  দুপুরে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭ উপলক্ষে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ উল হক তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ে বক্তব্য দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালেও গাধা জল ঘোলা করে খেয়েছিল। নির্বাচনের বহু আগে থেকে তারা (বিএনপি) সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না একথা বলে এসেছিলো। পরে গাধা জল ঘোলা করে খেয়েছে, নির্বাচনে গেছে।’

‘এবারও উনারা বলছেন নির্বাচনে যাবেন না। কিন্তু বিএনপির অনেক নেতাকে আমি জানি, চিনি, শুনি। মির্জা ফখরুল সাহেব যাই বলুন, বিএনপি নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে আছেন।’

এদিন সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ’শীর্ষক প্রদর্শনীর উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি একটু আগে সেই প্রোগ্রাম থেকে এসেছি, যেখানে বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্যের শিকার, নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্তনাদ পুরো মিলনায়তনকে কাঁদিয়েছে।’

‘বিদেশি কূটনীতিকরা সেখানে ছিলেন, তারা কেঁদেছেন। আমি নিজে কাঁদতে বাধ্য হয়েছি। সাংবাদিকরা কেঁদেছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে তারও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক বক্তা বলেছেন—আমরা যেন আমাদের জীবদ্দশায় আমার স্বামী বা আমার সন্তান বা আমার পিতা হত্যার বিচার দেখে যেতে পারি। ১৯৭৭ সালে বিনা বিচারে নিহতের সন্তানরা বলেছে—আমার বাবার কবর কোথায় আমি জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা দাবি জানিয়েছেন, তারা যেন তাদের বাবার কবর কোথায় সেটি জানতে পারে এবং এই হত্যাকাণ্ডের যাতে বিচার হয়।’

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান কয়েক হাজার সেনাসদস্যকে বিনাবিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন অভিযোগ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে যারা অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য করেছিল—বিএনপি সেই দল।’

‘যারা মাঠে গিয়ে বোমা নিক্ষেপ করেছে শুধু তারা নয়, এগুলোর পেছনে অর্থায়ন আছে, হুকুমদাতা আছে, বিএনপির হুকুমদাতা আর অর্থদাতাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটি এখন সময়ের দাবি এবং যাদের আর্তনাদ শুনেছি তাদের দাবি।’

যুদ্ধটা বন্ধ করুন, পৃথিবীকে রক্ষা করুন:

কপ-২৭ সম্মেলন ঘিরে পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকদের উদ্দেশে পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার একটি দেশ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।’

‘আমাদের দেশে আজ থেকে ১২-১৩ বছর আগে জনপ্রতি প্রতিবছর গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ছিলো ০.২ টন। সেটা একটু বেড়ে এখন ০.৬ টন। আর অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোতে জনপ্রতি প্রতিবছর গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ইউরোপে ১০ টনের বেশি, আমেরিকায় ১৫ টন বা আরও বেশি। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখন এই মাত্রা ৪-৫ টনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেই তুলনায় আমাদের ক্ষতিকর ভূমিকা নেই, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের ওপর অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি পড়ছে।’

আক্ষেপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পৃথিবীর মানুষ, পৃথিবীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব পৃথিবীকে রক্ষা করার পরিবর্তে এখন কে ন্যাটোতে যোগ দেবে কে দেবে না সেটি নিয়েই ব্যস্ত।’

‘আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত, একে অপরকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত, একে অপরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যস্ত। পুরো মানবজাতি যে মহাদুর্যোগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে এবং সেই প্রেক্ষিতে পুরো মানবজাতির অস্তিত্বই যে হুমকির মুখে পড়ছে, সেটি নিয়ে মাথাব্যথা খুব কম।’

হাছান মাহমুদ জানান, জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে এবারের মূল বক্তব্য থাকবে যে, ‘দয়া করে যুদ্ধটা বন্ধ করুন, একে অপরকে ধ্বংস করার পরিবর্তে সবাই মিলে পৃথিবীটাকে রক্ষা করুন।’

‘দ্বিতীয়ত, আমরা যারা জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার, আমাদেরকে যেহেতু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, প্রতিশ্রুত সাহায্য করতে হবে। আজকে থেকে শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এই বক্তব্যগুলোই তুলে ধরব’—বলেন তিনি।

পরিবেশ সচেতনতা আর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সাংবাদিকরা অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ সচেতনতাটা আমাদের দেশে অনেক দেশের তুলনায় ভালো। এটির পেছনে সাংবাদিকদের অবদান আছে। আমাদের ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে কাজ করছে। তারা এ সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।’

নিউজনাউ/একে/২০২২

X