alo
ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

'মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ অটো হওয়া যায় না, ঈমান ঠুনকো ব্যাপার না'

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২২, ০১:২৭ এএম

'মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ অটো হওয়া যায় না, ঈমান ঠুনকো ব্যাপার না'
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে বিষোদগারকারীদের সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। কোন ধর্মের বাণী বা মর্মবস্তু স্মরণ করলে বা বললেই যে কেউ অটো সেই ধর্মের অনুসারী হয়ে যায় না, তাতে কারো ঈমান নষ্ট হয়ে যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রায় প্রতিটা দিন চট্টগ্রাম-৯ আসনের এই সাংসদ তার সংসদীয় এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। মণ্ডপে মণ্ডপে দিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত এবং এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুদান। এর বাইরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় এই উপমন্ত্রী সেখানেও শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন লেখা লিখতেন। তার বিপরীতে আসা অনেক বিরূপ মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তিনি বুধবার (৫ অক্টোবর) দশমীর রাতে তার ফেসবুক এক লেখায় উপরের মন্তব্যগুলো করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঠকের জন্য তার ফেসবুকের লেখাটি তুলে দেয়া হলো-

'আমাদের সমাজে যারা সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতা, সংকীর্ণতায় ভোগা, তাদের ঈমানী জোড় আসলেই খুব দূর্বল। এরা বাঙালি বা সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতির আদলে, রুপক অর্থে বা শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি কিছু লিখলে, বললে, পড়লে, উঠে পরে লাগে ঈমান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণ করার জন্য।'

'ঈমান যদি এতই ঠুনকো বিষয় হতো, বিসমিল্লাহ, ঈদ মোবারক, আসসালামু আলাইকুম, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ বললেই, বা ইসলামি কায়দায় শ্রদ্ধা সম্মান দেখালেই যে-কেউ অটো মুসলমান হয়ে যেতো! অটো মুসলিম যেমন হওয়া যায়না, অটো হিন্দু, খ্রিস্টান বৌদ্ধও হওয়া যায়না। সনাতনী শ্লোকবাক্য, সম্ভাষন, পংক্তিমালা, আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতির শক্তিশালী অংশ। কিন্ত আমাদের নিজেদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা এই সব অন্ধকারের কীটগুলো সবসময় প্রস্তুত থাকে, কেউ কিছু বললেই, বা এই ভাষা, সম্ভাষনে কোনো উক্তি করলেই, এরা আওয়াজ তোলে!"

এরা গোটা একটা প্রজন্মের বেড়ে উঠার জন্য ক্ষতিকারক আখ্যা দিয়ে নওফেল লেখেন, এই সাম্প্রদায়িক নোংরা মানসিকতার লোকগুলোর পূর্ব পুরুষরা বাঙালি সংস্কৃতিকে অমুসলিম আখ্যায়িত করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছিলো এবং তাদের ধারাবাহিকতায় এরা সবসময়ই সমাজে ছিলো। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এদের মানসিকতা প্রকাশিত হয় তাই চোখে লাগে বেশি। আগে এরা মুখে বলতো, প্রচারের সুযোগ ছিলো না। এখন এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে এদের বিষাক্ততা ছড়ানোর সুযোগ বেড়েছে। এরা মানবতার নিরব শত্রু, এদের বিষবাষ্প ছড়ানো বন্ধ করা প্রয়োজন। এদের অনেকেই এই প্রজন্মের ক্ষতি করছে, এবং একটি সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে এই প্রজন্মকে বেড়ে উঠতে বাধ্য করছে।'

এমন মানসিকতার মানুষদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে লিখে এবং তাদের পরাজিত করার আহ্বান জানিয়ে নওফেল লেখেন, 'শুধুই বিদ্যালয়ের কিতাবি শিক্ষা দিয়ে এই মানসিকতা ধারনকারীদের পরিবর্তন হবে না। দূর্ভাগা আমরা, এরা আমাদের দেশে বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতেও পরিণত হয়েছে, আবার অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির সাথে হয়তো আপোষে আছে, নয়তো জোটে আছে। আরো শংকাজনক কথা হলো, কিছু পশ্চিমা রাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা, বাক স্বাধীনতার নাম করে, এই বিষবাস্প নিয়মিত ছড়ানোর কাজটি চালু রাখতেও বিশেষ ভাবে আগ্রহী। এই সাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোকগুলোকে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরাজিত করতে হবে, নয়তো ভবিষ্যতে এই নিরব তালিবানি শক্তিকে মোকাবেলা করা আরো কঠিন হবে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যে একটি ঝুঁকি!'

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X