alo
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার সফর ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২২, ১০:০২ এএম

শেখ হাসিনার সফর ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
alo


নিউজনাউ ডেস্ক: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধুকন্যার শেষ ভারত সফর। এই সফরকে ফলপ্রসূ করে তুলতে ভারত ও বাংলাদেশ; দুইপক্ষেই কূটনৈতিক তৎপরতাও রয়েছে তুঙ্গে। এরইমধ্যে দিল্লি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি দলও। 

শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের দিন কোনও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক থাকছে না, তবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে তিনি সেদিন ভারতীয় অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন বলে কথা রয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছেন।   

২০১৭ সালে দিল্লি সফরে শেখ হাসিনা উঠেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে। ২০১৯ সালের সফরে দিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলেই থেকেছিলেন তিনি। এই সফরেও তার ঠিকানা হবে ওই অভিজাত হোটেলটিতে।         পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার এবারের সফরে দুদেশের মধ্যে ‘সেপা’ (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) নামক বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজে এই চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু এ বিষয়ে ভারতের রাজি হওয়ার অপেক্ষা।  

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শত শত পণ্যের অবাধ ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের জন্য এটিকে একটি ‘ল্যান্ডমার্ক’ বা যুগান্তকারী সমঝোতা বলে গণ্য করা হচ্ছে। 

এছাড়া শেখ হাসিনার সফরের ঠিক আগেই একযুগেরও বেশি সময় পর দিল্লিতে বসছে দুদেশের জয়েন্ট রিভার্স কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক। দুই দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন নদীর জল ভাগাভাগি বা পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জেআরসি যে বিষয়গুলোতে একমত হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় সেটাই সমঝোতার আকারে পূর্ণতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

তবে আসন্ন এই সফরেও যে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি দিনের আলো দেখছে না, তা অবশ্য স্পষ্ট।

দিল্লির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার কথায়, ‘মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের আগে এটাই শেষবারের মতো তার ভারতে আসা। ফলে ভারত শেখ হাসিনাকে কিছুতেই খালি হাতে ফেরাতে পারবে না। আর পরিস্থিতি যদি সেরকমই হতো, তাহলে কিন্তু এই সফরটাই হতো না।’

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের মূল কার্যদিবস শুরু। সেদিন সকালে রাজঘাটে গান্ধী সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা অর্পণ ও রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনারের মধ্যে দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার শেষে শুরু হবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো। প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকও (সামিট বা শীর্ষ সম্মেলন) সেদিনই অনুষ্ঠিত হবে। দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে দিনভর সেসব বৈঠকের শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র জারি করা হবে বলে ঠিক হয়েছে।  

ভারতে সিআইআই বা ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের মতো প্রধান বাণিজ্য সভাগুলোর প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনা পরের দিন (৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার) সকালে ভাষণ দেবেন। ভারতের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে কীভাবে উভয়পক্ষই উপকৃত হতে পারে, সেই চিত্রই সেখানে তুলে ধরবেন তিনি।  

বুধবার বিকালেই তিনি পাড়ি দেবেন রাজস্থানের পবিত্র আজমির শরিফ দরগায়। সফরের একেবারে শেষ পর্বে খাজা বাবার এই মাজার জিয়ারত করেই তিনি রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের বিমানবন্দর থেকেই বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সোজা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন, দিল্লিতে আর ফিরবেন না।

এদিকে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজধানীতে এসে তার সঙ্গে দেখা করবেন কিনা, তা নিয়েও এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে।  

শেখ হাসিনা নিজে যে চাইছেন দিল্লিতে তার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির দেখা হোক, তা অবশ্য পরিষ্কার। গত মাসেই তিনি সরাসরি মমতা ব্যানার্জিকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন, আমি দিল্লিতে আসছি– আপনিও সেখানে আসুন।  

এই প্রস্তাবে প্রচ্ছন্ন সায় ছিল দিল্লিরও। শেখ হাসিনা এই ‘আমন্ত্রণ’ জানানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও পশ্চিমবঙ্গকে বার্তা পাঠানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় দিল্লিতে আসেন তা খুবই ইতিবাচক একটা সংকেত দেবে। 

তিস্তার মতো যেসব অমীমাংসিত বিষয় মমতা ব্যানার্জির বাধায় আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সরাসরি ও খোলামেলা কথাবার্তা হোক, এটা আসলে দিল্লিও চাইছে। 

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X