alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারিতেও গুনতে হয় টাকা

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২২, ০৬:৫৩ পিএম

হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারিতেও গুনতে হয় টাকা
alo

 

মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকজনের কাছে একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বেসরকারি অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় 'সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে' তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় ডেলিভারিসহ অন্যান্য সেবা নিতে আসা লোকজনদের গুনতে হয় বকশিশ নামে হাজারের উপর টাকা। তাদের এ ভরসার ভিত এবার নড়েচড়ে বসছে। কারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেলিভারি রোগী (নবজাতকের মাকে) সেবা পেতে বকশিশ, খুশি করতে গুনতে হয় দুই হাজার, তিন হাজার ও চার, পাঁচ হাজারের অধিক টাকা।

শুধু তাই নয়, অন্যান্য রোগীকেও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়ার পর রিলিজ পাওয়ার সময় বকশিশের নামে ৫ শত থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনকে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর বালুরটাল এলাকার মো. সামিরুদ্দিনের স্ত্রী নাসরিন সুলতানা নিশুর গত ১১অক্টোবর, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টা নাগাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারিতে একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। বকশিশের নামে হাসপাতালের আয়া ও নার্সকে দিতে হয় ১৫শত টাকা। 

একই রাতে তিনটার দিকে নরমাল ডেলিভারিতে উত্তরমেখল জাফরাবাদ এলাকার মো. আবু ওসমানের স্ত্রী সামিরা জাহান ইভার কোলজুড়ে এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তাকেও বকশিশের নামে গুনতে হয় দুই হাজার টাকা। 

শুধু তাই নয়, ওই রাতে গহিরা ফতেনগর এলাকার মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী রিমা আক্তারের নরমাল ডেলিভারিতেও একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তার কাছ থেকেও হাসপাতালের আয়া ও নার্সরা বকশিশের নামে ২ হাজার টাকা নেয়। পরে বিষয়টা জানাজানি হলে রিমা আক্তারকে ঐ ২ হাজার টাকা ফেরত দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সুরজিৎ দত্তকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বুধবার (১২অক্টোবর)
বেলা ১২টায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন।নরমাল ডেলিভারিতে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিউজনাউকে বলেন, টাকা তো নেওয়ার কথা না! ওষুধপত্র যা দেওয়ার এখান থেকে দেওয়া হয়। যেগুলো ওষুধ এখানে নাই, সেগুলো বাইরে থেকে আনা হয় সে ক্ষেত্রে হয়তো টাকা পয়সা নিতে পারে। তবে সরকারি হাসপাতালে কোন ফি দিতে হয় না। ডেলিভারি রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টা কেউ যদি লিখিত অভিযোগ জানায় আমরা তৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X