তাহলে এম আর খান কি ভুল করেছিলেন?

শরিফুজ্জামান পিন্টু : ‘ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে বাবার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই একটি চক্র আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরবে। আমি চিন্তাও করতে পারিনি যে, ডাক্তার এম আর খানের সহায় সম্পত্তি কেউ গ্রাস করবে।’ গণমাধ্যমে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ও প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এম আর খানের মেয়ে ম্যান্ডি করিমের এই বক্তব্য পড়ার পর কিছুই ভালো লাগছে না।

এম আর খান কে ছিলেন, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। জীবনভর তিনি দিয়ে গেছেন এ দেশকে, গড়েছেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, রক্ষা করেছেন হাজার হাজার শিশুর জীবন। এর মধ্যে ‘সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি’ এবং ‘সেন্ট্রাল হাসপাতাল’ জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগে তাঁর মেয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

আমি বাবার একমাত্র সন্তান এবং কন্যাসন্তান। আমার কোনো ভাই নেই। আমাকে কেউ আমার ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, এটা মেনে নিতে পারছি না, বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন ম্যান্ডি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ম্যান্ডি করিমের স্বামী রেজা করিম ও তাঁদের আইনজীবী তামিম রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বিশিষ্ট নাট্যকার মামুনুর রশীদ।

এখানে নাট্যকার মামুন ভাই ছাড়া কাউকে চিনি না। কিন্তু চিনতাম এম আর খানকে। শিশুদের নিয়ে কাজ করতেন বলেই হয়তো এই প্রবীণ ও প্রখ্যাত মানুষটিকে আমার শিশু বলেই মনে হতো। ওনাকে চেনার সূত্র ছিলেন তোয়াব খান, সাংবাদিকতায় যিনি আমার শিক্ষাগুরু। দুজনই নিকটাত্মীয়। বয়সের ভারে তোয়াব ভাই এখন বিছানায়, করোনামুক্ত হয়েছেন অতি সম্প্রতি। কিন্তু এখনও অসুস্থ। আল্লাহ ওনাকে যেন সুস্থ করে দেন।

তোয়াব খান, এম আর খানের মতো মানুষেরা এ দেশের সম্পদ। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিপদে পড়তে পারে না। এই তো সেদিন শুনলাম তোয়াব ভাইকে প্রয়োজনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এম আর খানের শেষ জীবনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছিল বর্তমান সরকার। এ নিয়ে তখন অনেক কথা হয়েছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিপক্ষে ছিল। উদ্যোক্তা হিসেবে যারা ওনার ওপর ভর করেছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। সেই সময়ে শিক্ষা সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলাম। যা বুঝেছিলাম তা হচ্ছে, যেহেতু এম আর খান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়েছেন সেহেতু সরকার না করতে পারেনি। আবার উদ্যোক্তারা ভালোভাবে জানতেন এম আর খান সামনে থাকলে কিছুই আটকাবে না। এ রকম অনেক ঘটনাই আমাদের দেশে ঘটেছে। বিশিষ্টজনদের সামনে রেখে দুষ্ট লোকেরা নানা সুবিধা নিয়েছে। আমাদের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, প্রখ্যাত সাংবাদিক এ বি এম মূসা থেকে শুরু করে অনেককেই নানাজনে নানাভাবে ব্যবহার করেছেন, এখনও করছেন।

এম আর খানের সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির অবস্থা জানার পর বৃহস্পতিবার কথা হচ্ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। আলোচনায় আমরা দুজনে একমত হই যে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শেষ জীবনে যেন টাউট–বাটপারেরা তাঁদের কাছে ভিড়তে না পারে।

ওই যে বলেছিলাম, শ্রদ্ধেয় এম আর খানকে মনে হতো শিশু, প্রত্যেক বিশিষ্টজনই হয়তো এমন শিশু হয়ে যান একটি সময়ে। তাঁরা দেশের জন্য কেবল করতেই চান, গড়তে চান প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণত ‘না’ বলতে পারেন না। এই সুযোগ নেয় সুযোগসন্ধানীরা। তাই পরিবারের ও স্বজনদের উচিত শেষ জীবনে নিজের অভিভাবককে ওদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা। কার সঙ্গে অংশীদার হচ্ছেন, কে তাঁকে ব্যবহার করছে এবং ফেসভ্যালুর সুযোগ নিচ্ছে—এসব কিছু স্বজনদের দেখা উচিত এবং জানা উচিত। আর সরকারের উচিত এমন কিছু দেওয়ার আগে ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেখা। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়, টেলিভিশন, রেডিও এবং হাসপাতাল কেনাবেচা চলতেই থাকবে।

কানে বাজছে ম্যান্ডি করিমের কথা। ওনাকে চিনি না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বাবার (এম আর খান) হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমার পাওনা শেয়ার, উত্তরাধিকার এবং ট্রাস্টি পদ থেকে আমাকে কৌশলে সরিয়ে রাখা ও বঞ্চিত করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমার কোনো অধিকার নেই, আমি এম আর খানের কেউ নই।

আসুন, আমরা সবাই এম আর খানের একমাত্র উত্তরাধিকারের পাশে দাঁড়াই। সরকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ—ওনার প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হোক।

নিউজনাউ/এমএএন/২০২১

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...
বেসরকারি হাসপাতালের সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল-দেশে করোনায় মৃত্যু ৮, নতুন শনাক্ত ৩৮৫-সংঘর্ষ, বর্জনে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা-তামিম-রিয়াদরা দ্বিতীয় কোভিড টেস্টেও নেগেটিভ-মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬-মমতাকে উৎখাতের হুঙ্কার দিয়ে ব্রিগেড শুরু-কার্টুনিস্ট কিশোরের রিমান্ড নামঞ্জুর-‘শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর’-মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু