alo
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গরীব-অসহায়দের পাশে কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২২, ০৮:০২ এএম

গরীব-অসহায়দের পাশে কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম
alo

 

আহসান রাজীব বুলবুল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, কানাডা: কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সোনারায় ইউনিয়নের অন্তর্গত সাবেকপাড়া গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সুদূর কানাডায় প্রবাসী জীবন যাপন করলেও মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় নিজ গ্রামের গরিব ও বেকার যুবকদের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা সহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়াও গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন ।

এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, কানাডায় প্রবাস জীবন যাপন করলেও হৃদয়ে থাকে বাংলাদেশ। নিজ গ্রামের গরিব দুঃখী মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই একক ভাবে নিজস্ব তহবিল থেকে গরীব দুস্থ ও অসহায় জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি। এদের মধ্যে যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা তাদেরকে নগদ টাকা সাহায্য দিয়ে চিকিৎসার ব্যাবস্তা করেছি । এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন গরিব , অসহায় ও দুস্থদের কে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ মানুষের জন্য এ চেতনা থেকেই যাদের থাকার ঘর নেই, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট ভোগ করছেন , তাদেরকে নতুন ঘরের ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত মোট ৪ জন গরিব মানুষকে নতুন টিনের ঘরের ব্যবস্থা করেছি।

গ্রামের ছোট ছেলে মেয়ে বয়স্ক মহিলাদের ইসলামিক শিক্ষা দেয়ার জন্য নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর একক ভাবে নিজস্ব তহবিল থেকে বিল্ডিং তৈরি করে মক্তব স্থাপন করেছি এবং মক্তবকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য একজন ম্যানেজার এবং একজন মহিলা ও একজন পুরুষ মাওলানা নিয়োগ দিয়েছি। যেখানে সকালে ছোট ছোট শিশু কিশোরদের ও বিকালে বয়স্ক মহিলারা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট শিশু কিশোরদের নাস্তার ব্যবস্থা করেছি, যাতে করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ায় উৎসাহিত হয়। 

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে আমার মা-বাবার নাম অনুসারে রইছ উদ্দিন শাহ বাবু এবং লাইলী খাতুন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা চালু করে দিয়েছি। যেখানে একজন হাফেজ শিক্ষক সহ মোট ১৫ জন এতিম ও গরিব বাচ্চারা প্রতিপালিত হবে এবং ভবিষ্যতে হাফেজ হবে। এছাড়াও এলাকায় বন্যার সময় বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করেছি এবং কোভিড-১৯' এর সময় গরীব দুস্থ মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আলু সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এবং পুরো রমজান মাসে গরিব দুস্থদের ইফতারিসহ খাবারের ব্যবস্থা করেছি। 

তিনি বলেন, নিজ বংশের মসজিদ টিন শেড থেকে বিল্ডিংয়ে রূপান্তর এবং উন্নয়ন কল্পে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা দান করেছি এবং পার্শ্ববর্তী আরও ৪ টি মসজিদ উন্নয়ন কল্পে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে ও থাকবে।

নুরুল ইসলাম নিজ এলাকার পীরগাছা হাটের প্রাইমারি স্কুল পাস করে পীরগাছা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে বি.এ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট থেকে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি প্রায় ৮ বছর জাপানে জীবন যাপন করেন এবং সেখানে উচ্চতর অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রী অফ কম্পিউটার সাইন্স এবং ডিপ্লোমা অন কুলিনারি আর্টস' এ শিক্ষা ও পারদর্শিতা অর্জন করেন।

এছাড়াও তিনি বগুড়া জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নট্রামস)-এর ১৭ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং সেখানে থেকে বাংলা - ইংলিশ টাইপিং ও সাঁটলিপি শিক্ষা অর্জন করেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (স্কিটি) থেকে স্মল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে বাংলা, ইংলিশ, জাপানিজ, হিন্দি ও উর্দু সহ মোট ৫ টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। 

তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকুরী ও ভ্রমণ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলি ভারত, বাহরাইন, জাপান, হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালটা, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা এবং সর্বশেষ কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং কানাডিয়ান নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন (বাংলাদেশী-কানাডিয়ান )।

নুরুল ইসলাম জীবনের প্রথম কর্ম জীবন শুরু করেন ঢাকায় বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)–এ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে যোগদান করেন এবং ব্রিগেডিয়ার আব্দুল হাফিজ এর সাথে প্রায় তিন বছর কাজ করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের একটি মানি এক্সচেঞ্জের আমন্ত্রণে এবং অথরাইজ অফিসার হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন, এবং সেখানেও প্রায় তিন বছর চাকুরী করেন ( অগ্রণী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্রাঞ্চ )। ১৯৯২ সালে তিনি দেশে ফিরেন এবং জীবন সঙ্গী নির্বাচন করেন। ১৯৯৩ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপান গমন করেন ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন এবং কিছু দিন ঢাকা শহরে জাপানিজ ভাষা শিখানো , স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং ও ফার্নিচার বিজনেস সহ বিভিন্ন বিজনেস এর সাথে জড়িত ছিলেন। তারপর তিনি আবারও জাপান গমন করেন এবং ২০০৪ সালে স্ব-পরিবারে ইউরোপ গমন করেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশ মালটাতে তিন তারকা বিশিষ্ট বিখ্যাত একটা হোটেল এর আমন্ত্রণে হেড সেফ হিসাবে সেখানে চাকুরীতে যোগদান করেন, রেডিসন হোটেল সহ পাঁচ তারকা বিশিষ্ট বিভিন্ন ভিআইপি হোটেলগুলিতে চাকুরীর পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফুড প্রোডাক্ট এন্ড প্রিপারেশন এর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তারপর কানাডায় থেকে চার তারকা বিশিষ্ট একটা হোটেল এর আমন্ত্রণে তিনি স্ব - পরিবারে কানাডা গমন করেন এবং সেখানে সোস সেফ হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন , প্রায় ০৪ বছর চাকুরী করার পর তিনি কানাডাতে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট বিজনেস শুরু করেন (নুরুল অথেনটিক ইন্ডিয়ান এন্ড ফিউশন কুইজিন) এবং স্ব- পরিবারে কানাডার নাগরিকত্ব অর্জন করেন। 

বর্তমানে তিনি দীর্ঘ দিন যাবত স্থায়ীভাবে কানাডাতেই বসবাস করছেন। নুরুল ইসলাম নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে রেস্টুরেন্ট বিজনেসের পাশাপাশি, ট্রান্সপোর্ট বিজনেস গ্রোসারি বিজনেসসহ বিভিন্ন বিজনেস এর সাথে জড়িত এবং কানাডাতেও তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।

উল্লেখ্য নুরুল ইসলাম ভবিষ্যতেও তাঁর সেবা অব্যাহত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। 

'নিউজনাউ ২৪' কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রবাসী নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা দেশের বাইরে থাকলেও আমাদের সবসময় চিন্তা চেতনা থাকে দেশ কে নিয়ে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল প্রবাসীদের ভালো কাজের সহযোগিতা না করে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয় যা মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। পরিশেষে তিনি সকলকে এক হয়ে গরীব দুস্থ মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য নুরুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে বগুড়া জেলার, গাবতলী থানার সোনারায় ইউনিয়নের অন্তর্গত সাবেকপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতাঃ মৃত রইছ উদ্দিন শাহ বাবু, মাতা : মৃত লাইলী খাতুন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। শৈশব ও কৈশোর জীবন একই গ্রামে কাটিয়েছেন। 

ব্যক্তিগত জীবনে নূরুল ইসলাম তিন সন্তানের জনক। পারিবারিক ও কর্ম জীবনে তিনি একজন সফল ও সুখী মানুষ। বড় মেয়ে কানাডার প্রসিদ্ধ একটি ব্যাংকে কর্মরত, মেজো ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়- এ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং- এ অধ্যায়নরত, ছোট ছেলে গ্রেড সিক্স - এ অধ্যায়নরত। স্ত্রী রুমা ইসলাম একজন আদর্শ গৃহিনী। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের সবাই ধর্মপরায়ণ ও জনকল্যানমূলক সেবায় বিশ্বাসী।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X