alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফিরে দেখা 'শনিবার বিকেল' বিতর্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৯:১৬ পিএম

ফিরে দেখা 'শনিবার বিকেল' বিতর্ক
alo

নিউজনাউ ডেস্ক: সমস্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুখবর ধরা দিলো । প্রায় চার বছরের অনিশ্চিত অপেক্ষা শেষে শনিবার বিকেলেই মিলল সুখবর। বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ডের আপিল কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জানান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ছবি ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এই শনিবার বিকেল মুক্তির অনুমতির আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে কম বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় নি। আজ সেইসব ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন।


সালটি ছিল ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৭। শনিবার বিকেল’-এর মহড়ায় অংশ নিতে থাকেন অভিনয়শিল্পীরা। মহড়ার পর ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার কোক স্টুডিওতে শুরু হয় ছবিটির শুটিং। এরপরের বছর জানানো হয়, সিনেমাটি দর্শকদের জন্য মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাছাড়া  সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রও পেয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে খবর আসে। মাস দুয়েকের মধ্যেই সিনেমাটি মুক্তি দিতে চাচ্ছে তারা। 

কিন্তু এই খুশির খবরের রেশ যেতে না যেতেই খবর আসে সিনেমার ব্যবহৃত সংলাপকে ঘিরে। খবর আসে, সিনেমার একটি সংলাপের ব্যাপারে নিজেদের পর্যবেক্ষণ করে ছবিটির ছাড়পত্র দিবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এটাও জানা যায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা ভাবছেন, ছবিটি ঢাকায় ঘটে যাওয়া হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে।

অথচ শুরুতে শনিবার বিকেল নিয়ে কম প্রশংসা হয়নি। এমনকি সেন্সর বোর্ডের অন্যতম সদস্য এই সিনেমা নিয়ে পজিটিভ ফিলিংস শেয়ার করেছিলেন সেই সময় । তিনি বলেন ওই সময় ছবিটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে, ছবিটির গল্পের সঙ্গে হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনার যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারিগরি দিক থেকে ছবিটি খুবই সমৃদ্ধ।’

এমনকি সেন্সর বোর্ডের আরেক সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের কন্ঠেও ছিলো প্রশংসার জোয়ার। 


সিনেমায় ব্যবহৃত সেই সংলাপকে কেন্দ্র করে  আবারো নতুন করে ‘শনিবার বিকেল’ দেখার সিদ্ধান্ত নিল সেন্সর বোর্ড। এবং ওই বছরই সেন্সর বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আলী সরকার এই ছবি নিয়ে মন্তব্য শেয়ার করে গনমাধ্যমে। তার ভাষ্যমতে সন্ত্রাসী আক্রমণ ও জিম্মিদশাকে অবলম্বন করে (বানানো)।


ওই মন্তব্যটি আশার পর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রথমে মন্তব্য করতে না চাইলেও শেষমেষ তিনি সামাজিক গনমাধ্যমে বলেন, 'এই ছবিটি কোনোভাবেই হোলি আর্টিজনকে মিলে না। আমাদের গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে হোলি আর্টিজানের ঘটনার কোনো মিল নেই। আমাদের গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে হোলি আর্টিজানের ঘটনার কোনো মিল নেই। তবে অবশ্যই হোলি আর্টিজানের চরিত্রগুলোর আত্মত্যাগ, বীরত্বগাথা এখানে উল্লেখ আছে। এক ভিন্ন আঙ্গিকে একটা গল্প বলতে চেয়েছি।'


অবশেষে যা ঘটল তা সবারই জানা। ১৫ সদস্যের সেন্সর বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিনেমাটি প্রদর্শনের উপযোগী নয় বলে মত দেন। কিন্তু এইদিকে 'শনিবার বিকেল' নিজের দেশে ও নিষিদ্ধ হলেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়। এবং অস্ট্রেলিয়া, প্যারিস, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে এটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়।

এই ছবিটি নিয়ে মার্কিন হলিউড রিপোর্টার লেখেন ছবিটি আদতে দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে এবং দেশটির ধর্মীয় সহিষ্ণুতা সবার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

কিন্তু এতোদিন সাংস্কৃতিক অঙ্গন চুপ থাকলেও ঠিকই সরব হয় যখন একি কনসেপ্টের উপর নির্মিত ভারতীয় সিনেমা 'ফারাজ'র ট্রেইলার প্রকাশ হয়। অথচ একই ঘটনা নিয়ে চার বছর আগে সিনেমা বানিয়েও মুক্তি দিতে পারছেন না বাংলাদেশের 'শনিবার বিকেল'। এরপর দ্রুত মুক্তি দাবি করে সরব হন নির্মাতা, চলচ্চিত্র সমালোচকেরা। ছবিটির দ্রুত ছাড়পত্র দিতে কলম ধরেন নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সমালোচক ফাহমিদুল হক। শনিবার বিকেল’-এর মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেন ১২৯ সংস্কৃতিকর্মী। প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় সেন্সর বোর্ডের কাছে। তাদের প্রশ্ন ছিল, ' বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব এখন আপিল কমিটির কাঁধে এসে পড়েছে। আমরা কি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে এমন দেশ হিসেবে পরিচিত করতে চাই, যেখানে শিল্পের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে?

অবশেষে আন্দোলন, সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে  সেই বহুল প্রতীক্ষিত রায়টি এল। শনিবার বিকেলেই জানা গেল ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তিতে আর বাধা নেই। এখন দেখা যাক দর্শকদের প্রত্যাশা কতটুকুই প্রমাণ করতে পারে এই চলচ্চিত্র।

নিউজনাউ ২৪/এসবি/২০২৩

X