alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নিজের 'আসল' শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছেন সুমন, বললেন কলকাতায় ফিরে

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:১৭ পিএম

বাংলাদেশে নিজের 'আসল' শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছেন সুমন, বললেন কলকাতায় ফিরে
alo


 
নিউজনাউ ডেস্ক:  উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন ঢাকায় এসেছিলেন গান শোনাতে।  ১৩ বছর পর বাংলাদেশে এসে তিন দিন গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। তিন দিনের অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা ছাড়ার আগের বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের সঙ্গে দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়ে সবাইকে চমকে দেন কবীর সুমন। গতকাল সোমবার কলকাতায় পৌঁছানো কবীর সুমন আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা জানালেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে তিনি তাঁর শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছেন।

ভারতে পৌঁছে আজ মঙ্গলবার দুপুরে কবীর সুমন তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কলকাতায় যে অল্প কজন আমায় বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের অভাব অনুভব করেছি ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর। কিন্তু বাংলাদেশ ছেড়ে এসে আমার হৃদয় আমায় বলে দিচ্ছে—আমার গান, আমার গানের সুর, তাল, ছন্দ, লয়, লিরিক, গায়কি, আমার কি-বোর্ড বাজানোর দেশ আসলে বাংলাদেশ। সেখানেই আমি এই চলতি তিয়াত্তরে আমার শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছি।

কবীর সুমন এ–ও লিখেছেন, ‘তাঁরা (বাংলাদেশের শ্রোতারা) আমার ধর্ম, আমার ধর্মান্তরিত ধর্ম, আমার রাজনৈতিক মতবাদের রং, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী নন। তাঁরা আমার গানবাজনা শুনতে আগ্রহী। জীবনে প্রথম দেখলাম, নানা বয়সের মানুষ দুলে দুলে আমার গান শুনছেন—একটি কথা নেই, কোথাও কোনো ফোন বেজে উঠছে না। জীবনে প্রথম মনে হলো তাঁদের শোনানোর জন্যই আমায় এখনো আরও রেওয়াজ করতে হবে, শিখতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে, শরীর ও কণ্ঠ ঠিক রাখতে হবে, কিবোর্ডে দখল আরও বাড়াতে হবে, গান গাওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ!’

১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’। এই গানের দৌলতেই দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান সুমন। এর পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিক গান, বাংলা খেয়ালও গেয়েছেন ‘গানওয়ালা’। ‘তোমাকে চাই’ গানের ৩০ বছর পূর্তিতে সুমনের গানের আয়োজন করা হয় ঢাকায়। তাঁর গানের অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে। কিন্তু সেখানে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশ ( ডিএমপি)। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ যাদুঘরের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমরা এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে পারি না। “ পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তাঁর গানের আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ পুলিশ।

একসময় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন নিজের মতো করে। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন মমতার পাশে। তারপর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য হন। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পরে তৃণমূল ছাড়েন। তাঁর জন্ম ভারতের ওডিশায়, ১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২

X