alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণে জড়িত  মূল পরিকল্পনাকারী রিয়াদ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২২, ০৬:৫৫ পিএম

বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণে জড়িত  মূল পরিকল্পনাকারী রিয়াদ গ্রেপ্তার
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: রাজধানীর ধানমণ্ডির এক বাসায় পার্লারের সেবা দিতে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ শিকার হওয়ার ঘটনায় রিয়াদ নামের এক যুবকসহ তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার মাহমুদ খান  বলেন, রিয়াদের শুক্রাবাদের বাসতেই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। এ কাজে আরও একজন নারীকে রিয়াদ ব্যবহার করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। 

“ধর্ষণে জড়িত তিনজনকেই শনাক্ত করা গেছে। যার বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে সেই রিয়াদ নিউ মডেল কলেজের শিক্ষার্থী। তবে যে নারী ফোন করে পার্লারের হোম সার্ভিসের জন্য ডেকে এনেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।“

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে জড়িত দুই যুবককে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। তারা হলেন- রিয়াদ (২৪) ও ইয়াসিন হোসেন ওরফে সিয়াম (২৩)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রিয়াদ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে সিয়াম বেকার যুবক। দুইজনই বন্ধু।

গ্রেফতারদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিসির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে গ্রেফতারদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের ডিসি একেএম আজিমুল হক। 

তিনি জানান, গণধর্ষণের শিকার নারী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। করোনাকালের আগে বিউটিশিয়ানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ফেসবুক পেজ খোলেন। সেই পেজে অর্ডার নিয়ে বাসায় গিয়ে বিউটিশিয়ানের কাজ করে দিতেন। মূলত বিভিন্ন সময়ে সেই বিউটিশিয়ানের কাছ থেকে যারা সেবা নিয়েছিলেন সেই নারীরাই তার গ্রাহক ছিলেন।

ঘটনার দিন গত ১১ অক্টোবর বিকেলে তার কাছে তসলিমা নামে এক নারীর ফোন আসে। তার ফোন পেয়ে সেই বিউটিশিয়ান নারী সাভার থেকে তার স্বামীর অনুমতি নিয়ে দ্রুত শুক্রাবাদে যান। আসার সময় তসলিমা নামে সেই নারী ছাড়াও তার ভাই পরিচয় দেওয়া রিয়াদের সঙ্গে তার কয়েকবার ফোনে কথা হয়। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই নারী শুক্রাবাদে পৌঁছলে রিয়াদ তাকে রিসিভ করেন এবং সেখান থেকে তার বাসা কিছুটা দূরে বলে তাকে পায়ে হেঁটে নিয়ে যান।

আজিমুল হক আরও বলেন, দ্বিতীয় তলার বাসায় নিয়ে সেই নারীকে বসিয়ে রাখেন রিয়াদ। এরপর তার বোন তসলিমার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর রিয়াদ বাসার নিয়ে গিয়ে দুই বন্ধু সিয়াম ও জিতু নামে দুই যুবককে নিয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একে একে ধর্ষণ করেন। শেষে সেই নারীর ব্যবহৃত ফোনটি কেড়ে নিয়ে তারা তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই নারী ভয়ে সেই বাসা থেকে দ্রুত চলে যান। পথিমধ্যে ওই ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। পরদিন তার স্বামী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিষয়টি ধানমন্ডি থানায় জানানো হয়। পরে ধানমন্ডি থানা বিষয়টি শেরে বাংলা থানাকে অবগত করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগে আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে রিয়াদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য যুবককেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। খোঁজা হচ্ছে তসলিমা নামে সেই নারীকেও।


নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২

X