alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

২ বছর আগের জন্মসনদ জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার কম্পিউটার দোকানি

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ১১:২৯ পিএম

২ বছর আগের জন্মসনদ জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার কম্পিউটার দোকানি
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডে দুই বছর আগে জালিয়াতি করে ১৮টি জন্ম সনদ ইস্যুর মামলায় আরও এক কম্পিউটার দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি ও সংশোধন করে দিতো সে।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার সরকার।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেফতার ওই কম্পিউটার দোকানির নাম নাজমুল হক আরিফ (৩৮)। তার কম্পিউটারের দোকানটি গাজীপুরের কাপাসিয়া সদর ইউপি কার্যালয়ের সামনে।

চট্টগ্রামের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, কাপাসিয়া সদর ইউপি কার্যালয়ের সামনে আরিফের কম্পিউটারের দোকান। যেখানে লোকজন সংশোধন, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন আবেদনের জন্য যান। দোকানে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করতে আসা লোকজনদের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে মূলত এ কাজটি করেন আরিফ।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৮-২৮ ফেব্রুয়ারি সফটওয়্যার হালনাগাদের জন্য জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যার কারণে ওই সময়ে কোনো জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়নি। পরে ১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নতুন করে পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর জন্মনিবন্ধন ও সনদ ইস্যুর কাজ শুরু হয়। নতুন ইউজার আইডির মাধ্যমে সফটওয়্যারে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্টরা জানতে পারেন, সফটওয়্যারের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হয়।

নগরীর ১৬ নম্বর চকবাজার ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে সাতটি করে এবং ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড থেকে ৪টি জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। যেগুলোর ১২টি সনদ রোহিঙ্গাদের হাতে গেছে বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। পরে ওই বছরের ৯ জুন একই দিনে চকবাজার থানায় একটি ও পতেঙ্গা থানায় দুটি মামলা করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারীরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২, ২৪, ২৬, ৩৩ ও ৩৪ ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছিল। যেগুলোর তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম শাখা।

আসিফ মহিউদ্দিন আরও জানান, এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। আরিফ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তথ্যগুলো আরেক জনকে দিতেন। সেই ব্যক্তি জন্মবিন্ধন করে দিতেন। আর সনদ প্রিন্ট করে দিতেন আরিফ। এভাবে প্রতিটি সনদের জন্য তিনি ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা—আরিফ অবৈধ উপায়ে দুই থেকে আড়াই হাজার জন্মসনদ সংশোধন ও তৈরি করেছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার সরকার বলেন, গত বছরের নভেম্বরে আরিফুল ইসলাম সাগর নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার ‘মূল হোতা’ বাকী দুজনকে ধরতে তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, হালনাগাদের আগে দেশের যেকোনো জায়গার কাউন্সিলর ও ইউপি কার্যালয়ের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারতেন তারা। যার কারণে জন্ম নিবন্ধন ও সনদ ইস্যুর কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও তারা সেই সার্ভারে প্রবেশ করে নিবন্ধন করেছিলেন। গ্রেপ্তার আরিফকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের জুনে অবৈধভাবে জন্মসনদ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামে তিনটি মামলা হয়েছিল। সেসব মামলায় গত বছরের নভেম্বরে যশোরের শর্শা উপজেলা থেকে আরিফুল ইসলাম সাগর নামে এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

নিউজনাউ/আরএইচআর/২০২৩

X