alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বৈধ মদ আমদানিতে কড়াকড়ি, ভেজালে মৃত্যু

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী, ২০২৩, ০২:৫৭ পিএম

বৈধ মদ আমদানিতে কড়াকড়ি, ভেজালে মৃত্যু
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: দেশে ভেজাল মদে বাড়ছে মৃত্যু। রাস্তাঘাট থেকে কেনা মদের বোতল জোগাড় করে, নতুন এ ফাঁদ পেতেছে সুযোগসন্ধানীরা। মূলত বৈধ মদ আমদানিতে শুল্ক বেশি হওয়ায় নিয়মানুযায়ী বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল আমদানি হয় না। যার কারণে আমদানি করা অ্যালকোহলের দাম অত্যন্ত বেশি এবং অ্যালকোহলসেবীরা ঝুঁকছেন ভেজাল মাদকের দিকে।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকসহ পাঁচজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় এসেছে এই ভেজাল মদ। যদিও তারা বিষাক্ত মদপানেই মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত কোনো প্রমাণ না থাকলেও ওই পাঁচজনের ঘনিষ্ঠজন বলছেন, এক আড্ডায় তারা মদপানের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার পিকনিকে ভেজাল মদপানে বেশ কয়েক কর্মীর মৃত্যু হয়। প্রায় একই সময়ে এই ধরনের মদপানে বগুড়ায় মারা যান ১৬ জন। 

জানা যায়, বৈধ বার এবং ওয়্যারহাউস থাকার পরও বাজারে ভেজাল মদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই সুযোগটাই নিচ্ছেন মদের ভেজাল উৎপাদক ও বিক্রিতে জড়িতরা। 

শুল্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা, অ্যালকোহল আমদানিতে ৬০০ থেকে ৬৫০ ভাগ শুল্ক রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ১৮৬ বৈধ বার ও ক্লাব রয়েছে। এর বাইরে দেশে প্রায় ২০০টি বৈধ মদ বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত ১৪টি ওয়্যারহাউস রয়েছে। ওয়্যারহাউস থেকে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বিপরীতে প্রতি মাসে ২০০ ডলারের মদ সরবরাহের বিধান রয়েছে।


এদিকে বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ওয়্যারহাউসগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট ছিলো। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওয়্যারহাউস থেকে শুল্কমুক্ত বিদেশি মদ বের করে তা বেশি দামে বিক্রি হতো। কিন্তু শুল্ক বিভাগ ওয়্যারহাউসগুলোতে কড়াকড়ি করায় আসল মদের সেই অবৈধ কারবার অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেই চাহিদা পূরণ করছে ভেজাল মদ।

কয়েকটি বারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ওয়্যারহাউস বা বার থেকে সহজে লাইসেন্স ছাড়াও বিদেশি মদ বের করা যেত। কিন্তু এখন তাতে কড়াকড়ি। লাইসেন্স ছাড়া মদ বের করা গেলেও খরচ দুই থেকে চারগুণ বেশি হয়। তা ছাড়া মদ বহন করতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেজাল মদের চাহিদা বেড়ে গেছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নিমতলীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভেজাল মদ উৎপাদনকারীরা বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল সংগ্রহ করে থাকে। বাজার থেকে কেনা স্পিরিট, মিনারেল ওয়াটার, চিনি আর রংয়ে বানানো হচ্ছে এসব মদ। 

খোলাবাজার থেকে কেনা স্পিরিট, চিনির সাথে আলতা মেশানো রং আর পানি হয়ে যাচ্ছে নামকরা বিদেশি ব্রান্ডের হুইস্কি।

যাদের পছন্দ সাদা মানে ভদকা, তাদের জন্য রয়েছে আরো সরাসরি সার্ভিস। স্পিরিটের সাথে পানি মেশানোর পর হয়ে যাচ্ছে সুপরিচিত সব ব্রান্ডের মদ। নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক সিল কিংবা ল্যাব। তবুও বোতলের পর বোতল বিদেশি মদ তৈরি হয় এসব কারখানাগুলোতে।

চিকিৎসকরা বলছেন, মিথানলের বিষক্রিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে চোখের স্নায়ুর ওপর। বিষক্রিয়ার শিকার হওয়ার পর বেঁচে গেলেও অনেকেই অন্ধ হয়ে যান। ২০১৭ সালে ‘অ্যানালস অব অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন’ নামে বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৪ থেকে ১২ গ্রাম বিশুদ্ধ মিথানল সরাসরি সেবন করলে একজন মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। ব্যক্তিভেদে এর চেয়ে কম পরিমাণ বিশুদ্ধ মিথানল সেবনেও অন্ধ হয়ে যাওয়ার বা মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২৩

X