ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে থেমে যায়নি দুদক

 

নিউজনাউ ডেস্ক : করোনাকালীন সময়ে কি ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি ধামা চাপা পড়ে গেলো! এমন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন অনেকে। অবশেষে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক থেমে নেই। পুরোদমে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের আওতায় এনেছে দুদক। এদের মধ্যে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে ৩৩টি। মামলাগুলোর মধ্যে ২২টিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আর ১১টি মামলা তদন্তাধীন। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশ রূপান্তরের সিনিয়র সাংবাদিক আলাউদ্দিন আরিফ।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ শুক্রবার জানান, ‘বালামুসিবত (করোনা) থাকবে। এজন্য কাজ বন্ধ রাখলে চলবে না। আমরা অনুসন্ধান দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্তদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাই। এজন্য আমাদের অনুসন্ধান কর্মকর্তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।’

ক্যাসিনো কারবারির তালিকায় মোট ১৬০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অনুসন্ধান দল ভালো বলতে পারবে। ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত ১৫৯ জনের একটি তালিকা শুরুর দিকে তৈরি করে কমিশন। পরে এই তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছ থেকে তাদের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’

দুদক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ১১ অক্টোবর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ফকিরাপুল ইয়ংম্যান্স ক্লাবে অভিযান এবং যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে। এরপর ক্যাসিনো কারবারিতে যেসব নাম আসে, তাদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ পর্যন্ত কমিশন ১৬০ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে ‘তালিকায় থাকা ১৬০ জনের মধ্যে অনেকে সরাসরি ক্যাসিনো কারবারিতে সম্পৃক্ত। কিছু নাম এসেছে বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের যোগসাজশে টেন্ডার জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে। ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্তদের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ভূমি অফিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, বিভিন্ন পৌরসভা, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিআইএফইউ), ডাকঘর, বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে তাদের সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়ে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। এমন অন্তত ২৫ জনের বিষয়ে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে কমিশনের সচিব ও সিনিয়র সচিব দিলওয়ার বখত গণমাধ্যমকে জানান, ‘কার সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে; কার হবে না, সেটি তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেবেন। তাড়াছা প্রত্যেক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান চলছে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চাওয়া তথ্য আসতে সময় লাগে। এজন্য কমিশন তাড়াহুড়োর পরিবর্তে এ বিষয়ে ধীরস্থিরভাবে এগোচ্ছে।’

Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
Loading...
বেসরকারি হাসপাতালের সেবামূল্য নির্ধারণ করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল-দেশে করোনায় মৃত্যু ৮, নতুন শনাক্ত ৩৮৫-সংঘর্ষ, বর্জনে শেষ হলো পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ, চলছে গণনা-তামিম-রিয়াদরা দ্বিতীয় কোভিড টেস্টেও নেগেটিভ-মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬-মমতাকে উৎখাতের হুঙ্কার দিয়ে ব্রিগেড শুরু-কার্টুনিস্ট কিশোরের রিমান্ড নামঞ্জুর-‘শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর’-মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু