alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বলৎকারের শিকার যুবক, ভারতীয় সিরিয়াল দেখে হত্যার পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২২, ০৯:০২ পিএম

বলৎকারের শিকার যুবক, ভারতীয় সিরিয়াল দেখে হত্যার পরিকল্পনা
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীর বলৎকারের শিকার হয়ে ভারতীয় সিরিয়াল দেখে পরিকল্পনা ও পরবর্তীতে সে ব্যবসায়ীকে প্রতিশোধের নেশায় হত্যা করে এক যুবক। সম্প্রতি নগরের ডবলমুরিং থানাধীন দাইয়াপাড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রামের মুনসুরাবাদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) মুহাম্মদ আলী হোসেন।  

এর আগে ১ আগস্ট ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকার একটি মার্কেটের টয়লেট থেকে মুদি দোকানদার শাহাদাত হোসেন (৩০) নামের সেই ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে ডিবি।  

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডবলমুরিং এলাকায় একাই থাকতেন শাহাদাত। তার মুদি দোকানে গিয়ে কেনাকাটার সূত্রে গত ৪-৫ মাস আগে পরিচয় হয় নগরের হালিশহর থানার সবুজবাগ এলাকার মো. আদনান জিসানের (২০)। এতে দুই জনের মধ্যে গড়ে উঠে সুসম্পর্ক। একদিন বাসায় ফিরতে জিসানের দেরি হলে, নিজ বাসায় ঢুকতে না পেরে শাহাদাতের বাসায় আশ্রয় নেয়। ওই রাতে শাহাদাত বলৎকারের চেষ্টা করে জিসানকে । কিন্তু এতে সে রাজী না হওয়ায় চুরির দায়ে মামলা করে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে বলৎকার করে শাহাদাত। এর পর থেকে ক্রমাগত বলৎকারের শিকার জিসান অতিষ্ট হয়ে ভারতীয় সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে শাহদাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এমনকি ওই ব্যবসায়ীকে হত্যা করতে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ৪০০ টাকায় একটি টিপ ছুরি কিনে জিসান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শাহাদাতকে খুন করার জন্য সেই ছুরি নিজের সাথেই রাখতো জিসান। খুন হওয়ার ২ দিন আগেও গত ২৮ জুলাই রাতে জিসানকে দোকানের পিছনে নিয়ে বলৎকার করে শাহাদাত। কিন্তু সাহস করতে না পারায় সেবার হত্যা করতে পারেনি জিসান। এরপর ৩১ জুলাই রাতে জিসানকে আবারও দোকানে ডাকে শাহাদাত। দোকান বন্ধ করে দোকানের পিছনে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে লাইট বন্ধ করে জিসানকে বলৎকারের চেষ্টা করে। এসময়  জিসান পকেট থেকে ছুরি বের করে শাহাদাতকে হত্যা করে।


উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) মুহাম্মদ আলী হোসেন জানান, কোনো ক্লু না থাকা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এবং আসামি গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, এলাকার নাইটগার্ডসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের নানামুখী তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলতে থাকে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর মোবাইলের কললিষ্ট পর্যালোচনা করে জিসানকে শনাক্ত করা হয়। এরপর শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে আনোয়ারা থানার তেকোটা এলাকা থেকে জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় শাহাদাতের চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

নিউজনাউ/একে/২০২২

X