alo
ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জাকিরের প্রতারনার ফাঁদে পা দেন এমপি-পুলিশও!

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৭:১১ পিএম

জাকিরের প্রতারনার ফাঁদে পা দেন এমপি-পুলিশও!
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা ও ভুয়া কাগজে একই গাড়ি বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ২০টি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে গাড়িগুলো উদ্ধারের কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।


বৃহস্পতিবার ঢাকার মিন্টোরোডে পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখিয়ে জাকির ৩৭ জনের কাছে বিক্রি করেছেন, সেই তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, ইউপি মেম্বার ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাও আছেন এই তালিকায়।


গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মেঘনা এলাকা থেকে দুটি মাইক্রোবাসসহ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁর দেওয়া তথ্যে গত বুধবার রাত পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ২০টি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরো ৪০টি গাড়ির বিষয়ে তথ্য দেন। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাঁচ-ছয়জনের সহযোগিতায় তিনি প্রতারণা করতেন বলে জানা গেছে।

ডিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, জাকিরের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক ভুক্তভোগীর অন্তত হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ও সুলভ মূল্যে গাড়ি কেনাবেচার নামে প্রতারণায় জড়িত ছিলেন। প্রতারণার টাকায় তিনি গ্রামে আলিশান বাড়ি করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে একজনকে উপহার দিয়েছেন প্রাডো গাড়ি। নির্বাচনে খরচ করেছেন বিপুল টাকা। ঢাকায় করেছেন একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি। ছেলেকে পাঠিয়েছেন আমেরিকায়।

অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন,  তাঁর ২০-২৫টি গাড়ি আছে। এসব গাড়ি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সবাইকে দেখাতেন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন তিনি। এমপি ও প্রশাসনের লোকদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়েছেন তিনি।

জাকিরের ৬৭টি গাড়ি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা ২০টি গাড়ি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করেছে। আরও ৪০টি গাড়ির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

 প্রতারণার মাধ্যমে সে আনুমানিক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তার প্রতিষ্ঠান ‘আরকে মটরস’ এর নামে এবং তার আত্মীয়-স্বজনের নামে ২৭টি ব্যাংক একাউন্ট এর তথ্য পাওয়া গেছে।”

জাকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানার ১২টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অটোরিকশা চালক থেকে কীভাবে এই প্রতারণার জগতে এসেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২

X