alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মুহিবুল্লাহ হত্যার কারাবন্দি আসামি আরসা নেতার চট্টগ্রামে মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৪:২৯ পিএম

মুহিবুল্লাহ হত্যার কারাবন্দি আসামি আরসা নেতার চট্টগ্রামে মৃত্যু
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কারাবন্দি মৌলভী জকোরিয়া (৫৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। জকোরিয়া রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রিপাবলিকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জকোরিয়ার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ ইমরান।

মৌলভী জকোরিয়া উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

কক্সবাজার কারাগারের জেলার কামাল উদ্দিন জানান, মৌলভী জকোরিয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার ১৪ নম্বর আসামি। তাঁকে কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘জকোরিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে তাকে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়। অসুস্থ হওয়ায় তাকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। গত শুক্রবার রাতে সেখানে মারা গেছেন তিনি। এরপর আমরা আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ হস্তান্তর করেছি।’

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে পালিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত।

মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সে সময় জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত মুহিবুল্লাহ ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থায় রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বও করেছিলেন তিনি।

মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর তাঁর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তিনি হামলাকারী কয়েকজনকে চেনার কথা সাংবাদিকদের জানালেও সেসময় মামলায় আসামির তালিকায় কারও নাম দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের এক জন মৌলভী জকোরিয়া। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে তাকে (মহিবুল্লাহ) পৃথিবীকে সরিয়ে দেওয়ার ফতোয়া দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান মৌলভী জকোরিয়া। চলতি বছরের ৫ মার্চ মহিবুল্লাহকে হত্যার ফতোয়া দেওয়ার অভিযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ১৪ এপিবিএন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা তৈরির মদদদাতাদের একজন শীর্ষ পরামর্শক হিসেবে জকোরিয়াকে বিবেচনা করা হয়।

রোহিঙ্গাদের কথিত উগ্রপন্থী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) ওলামা কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে আরসা প্রধানের নির্দেশনায় মহিবুল্লাহকে হত্যার জন্য ফতোয়া দেওয়ার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন জকোরিয়া।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের উত্তর মংডুর বাসিন্দা মৌলভী জকোরিয়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এলেও পরে মিয়ানমারে ফিরে যান। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে আবার অনুপ্রবেশ করে লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।

২০১৯ সালে তাঁকে নিজেদের ফতোয়া বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব দেয় আরসা। এরপর ২০২০ সাল থেকে আরসার ধর্মীয় শাখা ওলামা কাউন্সিলের কুতুপালং এলাকার প্রধান কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জকোরিয়া।

এদিকে গত ১১ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার আসামিদের বিচার শুরু হয়েছে। এর আগে ১৩ জুন ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। ঘটনার পর ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার মধ্যে ৬ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সাড়ে আট মাস তদন্তের পর ওই দিন দুপুরে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট আদালতের ডকেট শাখায় জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার ওসি তদন্ত গাজী সালাউদ্দিন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X