alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ১৬ নৌকায় ডাকাতি, ১২ জলদস্যু আটক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম

বঙ্গোপসাগরে ১৬ নৌকায় ডাকাতি, ১২ জলদস্যু আটক
alo

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে আশানুরূপ মাছ না পেয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার মাঝি তার ছেলে আনোয়ারকে দস্যুদের সর্দার বানিয়ে বোট ডাকাতি করার জন্য সাগরে পাঠান।  ৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বঙ্গোপসাগরে ১৬টি জেলে নৌকায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১২ জন জলদস্যুকে আটকের পর র‌্যাব এ তথ্য জানায়।

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নগরের চান্দগাঁওয়ে র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১২ দস্যুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ। তিনি বলেন, সাগরে তিনটি বড় জলদস্যু গ্রুপ কাজ করছে। একটি বাঁশখালী গ্রুপ নামে পরিচিত। এ গ্রুপের দস্যুদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া, পেকুয়া ও মহেশখালী গ্রুপ নামে আরও দুটি গ্রুপ রয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সম্প্রতি একটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়ে নতুন করে দস্যুতা শুরু করেছে এমন অভিযোগ আসে। গত ২৭ আগস্ট সাগরে ৯টি মাছ ধরার বোটে ডাকাতি হয়। এ বিষয়ে র‌্যাব তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে আমরা জানতে পারি, জলদস্যু বহনকারী একটি বোট সাগরে বিভিন্ন বোটে ডাকাতি করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্রে ও কুতুবদিয়া চ্যানেল হয়ে বাঁশখালীতে গত বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ১টি বোট, ৩ হাজার ইলিশ মাছ, মাছ ধরার বড় জাল, ৩টি ওয়ান শুটারগান, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১৬টি দা-ছুরি, ১টি বাইনোকুলার, ৪টি টর্চ লাইট, ২টি চার্জ লাইট, ২টি হ্যান্ড মাইক, ৭০টি মোবাইল, নগদ ৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সাগরে বেশি মাছ না পাওয়ায় বোটের মালিক বাঁশখালী গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার তার মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে মূলত নব্য জলদস্যু বাহিনী তৈরি করেন। সে নিজেই মূল পরিকল্পনাকারী এবং নিজেরে ছেলেকে ডাকাত সর্দার বানিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য অল্প পরিশ্রমে মেশি মুনাফা আয় করা। তারা এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি বোট ডাকাতি করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। আটক আনোয়ারের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৭ আরও জানান, তারা তিনটি গ্রুপ একসাথে কাজ করতো। এ বাহিনীর একটি গ্রুপকে আনছার মেম্বার পরিকল্পনা জানাত। আরেকটি গ্রুপ ডাকাতি করা মাছ আড়তদারদের কাছে তা বিক্রি করতো। অপর গ্রুপ বোট ডাকাতির পাশাপাশি জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপন আদায় করতো।

আটককৃতরা হলেন, আনোয়ার, লিয়াকত (মাঝি), মনির, আবুল খায়ের (ইঞ্জিন ড্রাইভার), নবীর হোসেন, নেজাম উদ্দিন,  হুমায়ুন, সাহেদ, সাদ্দাম, আতিক, এমরান, ও  আমানউল্লাহ।

 

 

 

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X