alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

২৮ বছরেও বাসযোগ্য হয়নি পূর্বাচল, হার্ডলাইনে রাজউক!

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী, ২০২৩, ১২:৪৩ এএম

২৮ বছরেও বাসযোগ্য হয়নি পূর্বাচল, হার্ডলাইনে রাজউক!
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের কিছু অংশ নিয়ে ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে ৬ হাজার ১৫০ একর জমিতে বাস্তবায়ন শুরু হয় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। যেখানে রয়েছে ৩০টি সেক্টরের অধীনে ২৬ হাজার আবাসিক প্লট। অথচ বরাদ্দপ্রাপ্তির ২৮ বছরেও সেখানে গড়ে উঠেনি বসতি। দেরিতে হলেও নড়েচড়ে বসেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)।

রাজউক বলছে, বেশ কয়েকটি সেক্টরে বিদ্যুৎ, পানিসহ ভবন করার মতো সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পরেও মানুষ প্লট ফেলে রাখছে। সুবিধা পাওয়ার পরও যারা ভবন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বরাদ্দ বাতিল হতে পারে।

নতুন এ শহরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বাসস্থানের সংস্থান হবে। এই প্রকল্পটি তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০১০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তারপর আরও দু’দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেটিও সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে এক পর্যায়ে ২০২১ সালের জুনে শেষ করার কথা বলা হয়। সেই সময় আবার এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনের পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নগরবিদরা বলছেন, যাদের প্রয়োজন নেই তাদের হাতে প্লটগুলো গেছে। আর তাই এ প্রকল্প বাসযোগ্য হচ্ছে না।

পূর্বাচলের এসব বিষয় নিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পূর্বাচল প্রকল্প ঘিরে রাজউকের পক্ষ থেকে সব কাজই প্রায় শেষ করেছে। যাদের হাতে রাজউকের প্লটগুলো গেছে তারা বাড়ি করছেন না। তাদের বাড়ি করার প্রয়োজন নেই। তাদের মূল শহরে থাকার ব্যবস্থা আছে। তাই তারা এসব প্লট কেনাবেচার মধ্যে রয়েছেন।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ২৬ হাজার ২১৩টি আবাসিক প্লটের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে ২২ হাজার। এর মধ্যে বাড়ি তৈরির জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০০ প্লটে। এছাড়া ৪৭২টি প্রাতিষ্ঠানিক ও ১ হাজার ৩৩টি বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে। প্রকল্প এলাকার ভেতরে ৩১৯ দশমিক ২৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৬৪০ কিলোমিটার সারফেস ড্রেন, ৬১টি ব্রিজ, ৪৩ কিলোমিটার লেক উন্নয়ন ও প্রোটেকশন, ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ ও পাঁচটি স্কুল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। প্রকল্পের ১৯ নম্বর সেক্টরে থাকবে ১৪০ তলার আইকনিক টাওয়ার। আর ১ নম্বর সেক্টরে শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।      

তাছাড়া ১৫ নম্বর সেক্টরে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ রাখা আছে। তাছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ১৪টি ব্লকে হাইরাইজ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ৬২ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ বাড়ির প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে। আমরা তাদের এখন বাধ্য করব বাড়ি করার জন্য। আমরা যেহেতু পানি দিচ্ছি, বিদ্যুৎ দিচ্ছি, রাস্তাও করে দিয়েছি, এখন বাড়ি বানাতে হবে। নয়তো প্লট বাতিল করার মতো হার্ডলাইনে যাব আমরা।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২৩

X