alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির তদন্তে এসে অভিযুক্তকে নিয়ে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৫:০৬ পিএম

দুর্নীতির তদন্তে এসে অভিযুক্তকে নিয়ে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ
alo

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠানের অর্থ অত্মসাতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে এসে খোদ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়েই দুই দিন ধরে কুষ্টিয়া এবং পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ ঘুরে বেরিয়েছেন তদন্ত টিম। শুধু শিক্ষা সফরের আদলে দুই জেলার দর্শনীয় স্থানে ভ্রমনই শুধু নয়, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিমকে ভূড়িভোজও করিয়েছেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন কুষ্টিয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউটে আলোচিত এ ঘটনা ঘটেছে। 

সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া নার্সিং ইনষ্টিটিউটের ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মোছা: কাঞ্চন মালার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক কেলেংকারীসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে। ইনচার্জ কাঞ্চন মালার স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ইতোপূর্বে শিক্ষার্থীসহ প্রতিষ্ঠানের ষ্টাফরা বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ অফিস কক্ষ তালা ঝুলিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক কেলেংকারীসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ইতোপূর্বে দুই বার তদন্ত হলেও অদৃশ্য কারণে বহাল তবিয়তেও রয়ে গেছেন ইনচার্জ মোছা: কাঞ্চন মালা। ইনচার্জের নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি ইনচার্জ কাঞ্চন মালার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শারীরিক লাঞ্ছনাসহ অসদাচরণ, প্রতিষ্ঠানের ৩০ সিটের কোচ ব্যবহার করে নিয়মিত নিজ বাড়ি মেহেরপুরে যাতায়াত,অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদান, অবৈধভাবে পরিবার নিয়ে হোষ্টেলে বসবাস করা,পচ্ছন্দের শিক্ষকদের পরীক্ষার ডিউটি ও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করার সুযোগ প্রদান, বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিজ বাড়ি মেহেরপুর নিয়ে যাওয়াসহ ১৩ টি অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষিকা মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর মহাখালী ঢাকা, ৪৫.০৩.০০০০.০০১.০১.০০২.২২-৩৯৫৭ নং স্মারকে উপসচিব পরিচালক (শিক্ষা) মো: রশিদুল মান্নাফ কবীর স্বাক্ষরিত তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সুলতানা পারভীনকে আহবায়ক, খুলনা নার্সিং কলেজের প্রভাষক লীলাবতী বিশ্বাস এবং ঢাকা নার্সিং কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. খোরশেদ আলমকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়। 

No description available.

উক্ত কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয় ওই চিঠিতে। ইনচার্জ কাঞ্চন মালার অর্থ আত্মসাতসহ অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম কুষ্টিয়ায় আসেন। প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, তদন্তকালে অভিযোগকারীদের সঙ্গে পৃথক-পৃথকভাবে মৌখিক কথা বলেন তদন্ত টিম। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই তদন্ত টিমের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন অভিযুক্ত ইনচার্জ কাঞ্চন মালা। সাদা ভাত, মুরগীর মাংস, খাসির মাংস, রুই মাছ, গলদা চিংড়ী মাছ, ছোট মাছ, কয়েক রকম ভর্তা, দই-মিষ্টি রাখা হয় আপ্যায়নের জন্য। তদন্ত টিমের সাথে প্রতিষ্ঠানের অন্যসব স্টাফরাও এই মধ্যাহ্নভোজে অংশ গ্রহণ করেন। মধ্যাহ্নভোজ শেষ হলে বিকেলে ইনচার্জ কাঞ্চন মালাকে সাথে নিয়ে তদন্ত টিম প্রতিষ্ঠানের কোচে চড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন সাঁই’র আখড়া বাড়ি পরিদর্শনে যান। ইনচার্জ কাঞ্চন মালার আতিথিয়তায় তদন্ত টিম আখড়া বাড়ি পরিদর্শনসহ লালন একাডেমীর শিল্পীদের গান উপভোগ করেন। পরের দিন শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সকালে নার্সিং ইনষ্টিটিউটের কোচে চড়ে ইনচার্জ কাঞ্চন মালাকে সাথে নিয়ে দিনভর মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর পরিদর্শন করেন তদন্ত টিম। 

সূত্রটি আরও জানায়, মুজিবনগর পরিদর্শনকালে নাস্তাসহ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ইনচার্জ কাঞ্চন মালা। মুজিবনগর ও মেহেরপুর পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় তদন্ত টিম কুষ্টিয়ায় ফিরে আসেন এবং কুষ্টিয়ায় রাত্রি যাপন করেন। তদন্ত শেষে শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তদন্ত টিম একযোগে কুষ্টিয়া ত্যাগ করেন। দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত করতে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আপ্যায়ন গ্রহণ করা এবং তাঁকে নিয়ে বিভিন্নস্থান পরিদর্শন করার ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তদন্ত টিমের আহবায়ক সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সুলতানা পারভীন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, আশা করছি তিন জন মিলে আলোচনা করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে। তদন্ত টিমের অপর সদস্য খোরশেদ আলম অভিযুক্ত ইনচার্জ কাঞ্চন মালাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের কথা স্বীকার করে দাবি করেন যেহেতু তদন্তে তিনি এখনো দোষী প্রমাণিত হননি সেজন্য তাঁকে নিয়ে বেড়ানো দোষের কিছু আছে বলে মনে করেন না তিনি। 

 

নিউজনাউ/কেআই/২০২৩
 

X