alo
ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নৌকার আদলে ‘সর্বৃবহৎ’ মঞ্চে বসবেন প্রধানমন্ত্রীসহ ২০০ অতিথি

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ০৩:১৮ পিএম

নৌকার আদলে ‘সর্বৃবহৎ’ মঞ্চে বসবেন প্রধানমন্ত্রীসহ ২০০ অতিথি
alo

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ দশ বছর পর জনসভায় যোগ দিতে আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভার বাকি আর মাত্র ৪ দিন বাকি। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার জন্য পলোগ্রাউন্ড মাঠে নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জনসভার মঞ্চ তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে, যা চট্টগ্রামে আগের যে কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চের চেয়ে বড় বলে দাবি করা হচ্ছে।

নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে দিনরাত সমানতালে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। পাশাপাশি পুরাদমে কাজ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণার। জনসভা সফল করতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। থানা-উপজেলা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বত্র প্রচারণা শেষে এখন জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে শীর্ষ নেতারা প্রায় প্রতিদিন মাঠ পরিদর্শন করছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে-পরে নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। 

গত মঙ্গলবার পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর জনসভার জন্য পুরো চট্টগ্রাম নগরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। নগর পুলিশের ছয় হাজার ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও দেড় হাজার ফোর্স আনা হচ্ছে।

Open photo

এদিকে সমাবেশের যে মঞ্চ তৈরি হচ্ছে, তা চট্টগ্রামে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ বলে দাবি করেছেন মঞ্চ তৈরির কাজে নিয়োজিত শাহাবউদ্দিন ডেকোরেটার্সের মালিক ও ২১ নং জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহাবউদ্দিন।

তিনি বলেন, নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চের মোট দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট। এর মধ্যে মূল মঞ্চের দৈর্ঘ্য ৯০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০ ফুট, যাতে ২০০ জন বসার ব্যবস্থা থাকছে। মঞ্চের উচ্চতা ৬ ফুট। মূল মঞ্চের পশ্চিমে গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের বসার জন্য আলাদা মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। পূর্বদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এবং মাঝখানে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। মূল মঞ্চ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। এরপর থেকে দর্শক বসতে পারবেন।

সাহাবউদ্দিন আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আমার প্রতিষ্ঠান চালু হয়। এ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তঃত এক হাজার জনসভার মঞ্চ করেছি। প্রধানমন্ত্রী যখন এই পলোগ্রাউন্ডে সর্বশেষ জনসভা করেন, সেই মঞ্চও আমরা করেছি। এরপর ২০১৮ সালে পটিয়ায় জনসভার মঞ্চ করেছি। এবারের মতো বড়ো মঞ্চ চট্টগ্রামে আগে কখনো আমরা করিনি।’

ঢাকার কলরেডি থেকে ৩০০ মাইক ভাড়া করা হয়েছে জনসভার জন্য। সাহাবউদ্দিন জানিয়েছেন, জনসভাস্থলের পাশাপাশি স্টেশন রোড, সিআরবি, নিউমার্কেট, কদমতলী, দেওয়ানহাট এলাকা পর্যন্ত মাইক থাকবে।

Open photo

এদিকে জনসভা সফল করতে নেতাকর্মীদের পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে পুরো নগর। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীকে বরণে চট্টগ্রামজুড়ে চলছে আয়োজন। জনসভার মাঠের ভেতরের দশগুণ (প্রায় ২০ লাখ) বাইরে লোকসমাগম করার কথা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ বছর ৯ মাস পর একই মাঠে আবার ভাষণ দেবেন তিনি।

সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, এরই মধ্যে পলোগ্রাউন্ডের জনসভার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক এমপি ও নেতা নিজ নিজ এলাকা থেকে লোকজন আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে প্রচুর লোকজন আসবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ থেকেই চট্টগ্রামে জনসভায় আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন। গত ১৪ বছর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আসবেন। এখন মাঠে মঞ্চের কাজ চলছে।

মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রামবাসী আরও একটি রেকর্ড করবে। জনসভা কাকে বলে ওই দিন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ দেখিয়ে দেবে। এই জনসভাকে আমরা জনসমুদ্রে পরিণত করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে বন্দর নগরীতে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে কোনও সরকারের সময়ে হয়নি। চট্টগ্রামের মানুষ এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করা শুরু করেছে। আরও কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এসব প্রকল্পের সুফল পাবে নগরবাসী। চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়নের জন্য এখানকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসভায় উপস্থিত হবেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ব্যানারে চট্টগ্রামে এটিই প্রথম জনসভা। তাই এই জনসভার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামবাসীকে দেয়া হবে ভোটের বার্তা। একইসাথে মিলবে নতুন দিক-নির্দেশনা। আওয়ামী লীগের বৃহত্তম এই জনসমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা থেকে কয়েক লাখ নেতাকর্মী যোগদান করবেন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X