alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রংপুরে পৃথক দুই মামলায় ৬ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

রংপুরে পৃথক দুই মামলায় ৬ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড
alo

 

রংপুর ব্যুরো: কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রংপুরে আলাদা দু’টি রায়ে ৫ জনের আমৃত্যু ও এক জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান  এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-৩ এর বিচারক এম আলী আহমেদ এ রায় দেন। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার নরসিংহ গ্রামের আইয়ুব আলীর কিশোরী কন্যার সাথে একই গ্রামের সামসুল আলমের ছেলে আবুজার রহমানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। কিশোরী মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে আবুজারকে বিষয়টি জানায়। ২০১৫ সালের ১৪ মে নিহত কিশোরীর বাবা মা এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। বাসায় কিশোরী মেয়েটি ও তার ভাগ্নি সান্তনা ছিলো। এ সুযোগে আসামী আবুজার তাদের বাসায় এসে নিহত কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আসামী আবুজার ও তার অপর ৪ বন্ধু আলমগীর, নাজির হোসেন, করিম বাদশা ও আমিনুর পুর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৫ আসামী মিলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে কিশোরী গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সব ঘটনা তার বাবামাকে জানানোর কথা বললে আসামীরা কিশোরীটিকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জবাই করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে লাশ বাড়ির অদূরে ক্ষেতে ফেলে চলে যায়। 

এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর বাবা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করে। এলাকাবাসি আসামী আবুজারকে ধরে পুলিশে সোপর্দ্দ করে। পরে পুলিশ তার দেয়া জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে অপর ৩ আসামী নাজির হোসেন , করিম বাদশা ও আমিনুরের নাম বলে। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ৫ আসামীকে দোষি সাব্যস্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান আমৃত্যু সশ্রম কারাদন্ড ও  এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। পলাতক আসামী আলমগীর গ্রেফতার হবার পর সাজা কার্যকর করা হবে বলেও বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

এদিকে, তারাগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মিঠুন শেখ সবুজ নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-৩ এর বিচারক এম আলী আহমেদ এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত সবুজ রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর শেখের হাট গ্রামের মোজাহার শেখের ছেলে।

এমামলায় জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে আসামি মিঠুন শেখ সবুজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই মেয়েটিকে তার বাড়ির পেছনে আসতে বলেন। মেয়েটি সেখানে আসা মাত্রই মিঠুন জোর করে পাশের পুকুরপাড়ে নিয়ে যেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফেলে পালিয়ে যায় সবুজ।

এ ঘটনায় ১১ ডিসেম্বর মেয়েটির বাবা তারাগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ মে আদালতে দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ৩০ আগস্ট মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি তাজিবুর রহমান লাইজু জানিয়েছেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক মিঠুন শেখ সবুজের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। এছাড়া অপর আসামি আতিক মিয়াকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 

X