alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মাল্টার বাম্পার ফলনেও হাসি নেই টাঙ্গাইলের চাষিদের

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৩:১৭ পিএম

মাল্টার বাম্পার ফলনেও হাসি নেই টাঙ্গাইলের চাষিদের
alo


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেকটাই অনুকূলে। যার ফলে প্রায় সব ধরণের ফসল উৎপাদন হয় এ উপজেলাগুলোতে। এ অঞ্চলে কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনা এনেছে লেবুজাতীয় ফল মাল্টা। এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে মাল্টা চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে প্রান্তিক কৃষকেরা অনেকটাই ঝুঁকছেন মাল্টা চাষে। তবে মাল্টার দাম কম থাকায় অনেকটা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন কৃষকেরা। 

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানান, এবছর ঘাটাইলে ১৩৫ হেক্টর জমিতে সবুজ মাল্টার বাণিজ্যিক চাষ হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে মাল্টা বাজারজাত করলে কৃষক অবশ্যই লাভবান হবে। এই মাল্টা হার্ভেস্টিয়ের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বরের ১৫ থেকে অক্টোবরের ১৫ পর্যন্ত।

No description available.

কৃষকদের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাই মাল্টার চাহিদা কমার মূল কারণ। অনেক মাল্টা চাষি বেশি লাভের আশায় সময়ের আগেই অপরিপক্ব মাল্টা বাজারে বিক্রি করেন। ফলে স্বাদহীন এসব মাল্টা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা। 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের  মালটা চাষী আশরাফ মিয়া বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সবুজ মাল্টার বাগান করেছি, এখন এই টাকা পরিশোধ করবো কীভাবে।' 

তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে সবুজ মাল্টা চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল। তবে বাজারে এর চাহিদা ও দাম কম থাকায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ তার কপালে। শুধু আশরাফ মিয়া নয়, ঘাটাইলে এমন অনেক মালটা চাষি মূলধন খোয়ানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। মাল্টা বাগান নিয়ে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন, সানবান্ধা এলাকার মাল্টা চাষি হোসেন মিয়া, বেইলা গ্রামের হিমেল, আ. হালিম।

 

সাগরদীঘি এলাকার মাল্টা চাষি সোহেল মিয়া বলেন, আমি আমি ৪ একর জমিতে মাল্টা চাষ করেছি। আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ টাকার মতো। গত সিজনে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মালটা বিক্রি করেছ। প্রথমদিকে মালটার ভালো দাম  থাকলেও শেষ পর্যন্ত মালটার দাম একদম কম ছিল। আগামীতে ফলন আশা করি আরও ভালো হবে। কিন্তু দাম কম থাকলে নিঃসন্দেহে বাগান কেটে ফেলতে হবে। 

বাগান মালিক পরান বলেন, আমাদের পাহাড়ি এলাকার লাল মাটি হওয়ায় মাল্টা চাষের জন্যে বেশ উপযোগী। মাল্টার ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার ব্যবস্থা এলোমেলো এবং দাম কম থাকায় আগামীতে বাগান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। 

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান জানান, ঘাটাইলে মাল্টা চাষে কৃষকরা বেশ আগ্রহী। ফলনও ভালো হয়েছে। এই মাল্টার পুষ্টি, স্বাদ ও গুণেমানে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তবে হার্ভেস্টিং সময়ের আগে অপরিপক্ব মাল্টায় বাজার নষ্ট হয়েছে। তাই অপরিপক্ব মাল্টা বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে হবে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X