alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তিস্তা সেতু নির্মাণে বদলে যাচ্ছে দুই জেলার চিত্র

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৫৫ এএম

তিস্তা সেতু নির্মাণে বদলে যাচ্ছে দুই জেলার চিত্র
alo



গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ওপারে কুড়িগ্রামের চিলমারী, এ পারে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এবং মাঝপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত তিস্তা নদী। দুই উপজেলার লাখ লাখ মানুষের পারাপারের একমাত্র উপায় ছিল খেয়া। দিনে খেয়াতে নদী পাড়ি দিতে পারলেও সন্ধ্যে নেমে এলেই বন্ধ হয়ে যেত সেই খেয়া। যুগযুগ ধরে যাতায়াতের সেই দুর্ভোগ নিরসনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে এক দশমিক ৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের তিস্তা সেতু। 

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যকার তিস্তা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এলাকার চিত্র। এরই মধ্যে সেতুর কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। 

এলজিইডি ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর দাবির মুখে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ঘাট থেকে তিস্তা নদীর ওপর দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত এক হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এলজিইডির সার্বিক তত্ত্বাবধানে নদীর ওপর মূল সেতুটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেড। সেতু নির্মাণের ব্যয় সুন্দরগঞ্জ অংশে পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণ, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক, বক্স কালভার্ট, সাতটি ছোট সেতু, ৪০টি কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় ১৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেতু নির্মাণের কাজ অর্ধেকের মতো শেষ। ফলে স্রোতস্বিনী তিস্তার ওপর সেতুটির অবস্থান এখন স্পষ্ট।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে সেতু এলাকার দুই পাশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেকে। অসংখ্য দোকানপাট, খাবার হোটেল ও রেস্টুরেস্ট গড়ে উঠেছে। জমির দামও বাড়ছে। তিনি বলেন, আন্ত উপজেলা সংযোগের ক্ষেত্রেও তিস্তা সেতু বড় ভূমিকা রাখবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার লেবু জানালেন, সুন্দরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার এই তিস্তা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য আসবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব কমবে অন্তত ১০০ কিলোমিটার।

কাজের অগ্রগতির বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান জানান, সেতুর কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। এরই মধ্যে ৩০টি পিলারের মধ্যে ১৪টির কাজ শেষ। আর ৮৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সন্দরগঞ্জ অংশে ৫০ কিলোমিটারের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যাবে। একই সময়ের মধ্যে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর-সুন্দরগঞ্জ, চিলমারী পর্যন্ত ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।’

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X