alo
ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাতে চিন্তা করে সকালেই 'চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের' মালিক বনে যান তারা!

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২২, ০৯:৩১ এএম

রাতে চিন্তা করে সকালেই 'চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের' মালিক বনে যান তারা!
alo

মেজবা উদ্দিন পলাশ, কুষ্টিয়া: ক্লিনিকের জন্য রেডি বিল্ডিং, মেশিনপত্র অপেক্ষা করছে। রাতে চিন্তা করে সকালেই হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হওয়া যায়। আর অনুমোদন,সেটাতো ছেলের হাতের মোয়া। হাতের তুড়িতেই  মেলে যায় অনুমোদন।বলছি কুষ্টিয়া জেলা সদরে অবৈধভাবে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে  উঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কথা।যেখানে চলছে  রমরমা চিকিৎসা বাণিজ্য।

শহরের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো এভাবেই গড়ে উঠা নিম্নমানের নামসর্বস্ব প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো এখন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।  নিম্নমানের এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর অপচিকিৎসায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা। ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। বেশিরভাগ ক্লিনিকে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা নার্স নেই। তাতে কি আসে যায়। ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র ও তাদের প্রতিনিধিরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। কুষ্টিয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীদের নানান কৌশলে সিন্ডিকেট চক্রের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের রিসিটের মাধ্যমে রোগী ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসাধু চিকিৎসকও জড়িত রয়েছেন। তাদের কারসাজিতে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে দেয়া বিভিন্ন টেস্ট করতে চলে যাচ্ছে পাশেই গড়ে তোলা বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ।এভাবেই  দিব্যি চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য।


জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেয়া তথ্য মতে, জেলায় অনুমোদনপ্রাপ্ত ১৪০টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এদের মধ্যেও কারো কারো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কারো কারো পরিবেশসহ অন্য সহযোগী অনুমোদন নেই। তবে অবাক করা তথ্য হলো এর বাইরেও অনুমোদনহীন ৬০ থেকে ৭০টি বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল অবাদে চলছে। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এসব হাসপাতাল ক্লিনিকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেঁড়েই চলেছে। পাল্লা দিয়ে চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণাও বাড়ছে। ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার করে অনেকেই রাতারাতি 'আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেছেন। কামাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। নামে-বেনামে গড়েছেন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পাহাড়। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর মালিকরা সবাই এখন বিপুল ধন-সম্পদের মালিক। নাম-প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে কথা হলে নিম্নমানের নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর অপচিকিৎসার কথা শিকার করে তারা জানান,কয়েকটি ক্লিনিক মালিকদের কারণেই অন্যসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর বদনাম হচ্ছে। এদের অনুমোদনও নেই। তবুও সেখানে বসেই চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে সবাই এখন বিপুল ধন-সম্পদের মালিকও হয়ে গেছেন।  

সেচ্ছাসেবী কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, এ জেলায় সরকারি হিসাব ও হিসেবের বাইরে ২০০টি বা তারও বেশি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলমান রয়েছে। এ গুলোর অর্ধেকটিতেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কোনো টেকনোলজিস্ট না থাকলেও  তারা বিভিন্ন রোগী পরীক্ষার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ডাক্তার না থাকলেও অপারেশন চলে সমানে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন চিকিৎসা প্রতারণা। তাই অচিরেই এসব প্রতিষ্ঠানের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেওয়ার দাবি জানান তারা। কিছু অসহায় সাধারণ মানুষের অসুখকে পুজিঁ করে তারা ব্যবসা করে নিচ্ছেন। চিকিৎসার নামে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ জেলায় চিকিৎসার ভয়াবহ চিত্র ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, এ জেলায় চিকিৎসার নামে নৈরাজ্য চলছে। মন চাইলেই প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হয়ে যাচ্ছেন। কিছু টাকা থাকলে রাতে চিন্তা করে সকালেই ক্লিনিক করা যায়, ব্যাপারটা এমনই হয়ে দাড়িয়েছে। 

 

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনারুল ইসলাম বলেন, জেলায় প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের অনুমোদন বিষয়ে সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাদের অনুমোদন আছে তাদের ক্ষেত্রেও তদারকি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 

X