alo
ঢাকা, মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ভুয়া দলিলে প্রবাসীর জমি দখল

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৩:৪৩ পিএম

কুষ্টিয়ায় ভুয়া দলিলে প্রবাসীর জমি দখল
alo

 


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় ভূমি অফিসের তহসিলদার শাহ মেসবাহুর রহমান ও ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান।এলাকায় তারা ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তাদের যোগসাজশে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে  নামজারি করে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবী দুই বোনের প্রায় ২৮বিঘা পৈতৃক জমি ও পেট্রোল পাম্প জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।   এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী দুইবোন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া আদালতে ৭টি মামলা দায়ের করেছেন। 

ভুক্তভোগীরা হলেন- কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদী গ্রামের মৃত নিয়ামত আলী শেখের মেয়ে জামিলা নাহার শেখ ও জুবাইদা নাহার শেখ। জুবাইদা নাহার শেখ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং জামিলা নাহার শেখ সরকারি চাকরিজীবী। তারা বর্তমানে ঢাকার গুলশানে বসবাস করেন। 

দীর্ঘদিন নিজ গ্রামে যাতায়াত না থাকায় এর সুযোগটিই কাজে লাগান এই ভূমিদস্যু চক্র। রাতারাতি পৈতৃক জমি ও পেট্রোল পাম্প দখল করে লালন ফিলিং স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে এই ভূমিদস্যু চক্র রাজধানী ফিলিং স্টেশনের সাইন বোর্ড জোরপূর্বক ঝুলিয়ে দেন। এঘটনা্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

পৈতৃক এই জমি ও পেট্রোল পাম্প জবরদখলে আদালতে মামলার আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার দুর্বচরা গ্রামের মৃত শাহ উজির উদ্দিনের ছেলে শাহ মেসবাহুর রহমান (৫৫)। তিনি হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের তহসিলদার ছিলেন। বর্তমানে মনোহরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত তিনি। একই উপজেলার রাহিনী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামসুল ইসলাম (৩০), একই গ্রামের আক্তার খায়েরের ছেলে সাদ্দাম খা (৩০) এবং দুর্বচরা গ্রামের শাহ খলিলুর রহমানের ছেলে শাহ ইউসুফ হোসাইন (৩২)। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মেসবাহুর রহমানের যোগসাজশে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ বিঘা জমি জবরদখলের চেষ্টা করছেন তাঁরা। 

মামলার এজাহার সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদী গ্রামের মৃত নিয়ামত আলী শেখের মেয়ে জামিলা নাহার শেখ সরকারি চাকরিজীবী।  তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করেন। এবং জুবাইদা নাহার শেখ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তিনি প্রায় ২৩ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া থাকেন। তারা গ্রামে যাতায়াত করতেন না। বেতনভুক্ত কেয়ার টেকাররা তাদের মাঠের আবাদি জমি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করতেন। জমির মালিকেরা এলাকায় না থাকার সুযোগ নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মেসবাহুর রহমানের যোগসাজশে আসামি শামসুল ইসলাম, সাদ্দাম খা এবং শাহ ইউসুফ হোসাইন ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি তৈরি করে প্রায় ২৮ বিঘা জমি, বাড়ি ও পেট্রোল পাম্প জবরদখলের চেষ্টা করছে। এঘটনা শোনার পর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জুবাইদা নাহার জুন মাসে বাংলাদেশে আসেন। এবং ঢাকায় বসবাসকারী চাকরিজীবী বোন জামিলা নাহারকে সাথে নিয়ে  ভূমিদস্যু ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালতে তিনটি ক্রিমিনাল মামলা ও চারটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। 

আরও জানা গেছে, হরিনারায়ণপুর মৌজায় ১৮ বিঘা আবাদি জমি, বিত্তিপাড়া রাস্তার পাশে ২বিঘা জমি, উজান গ্রাম মৌজায় পেট্রোল পাম্পের ১৪ শতাংশ এবং বেড়বাড়াদি গ্রামের বাড়িসহ সাড়ে ৬ বিঘা জমির দখলের পায়তারা করছে আসামিরা। ইতিমধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পেট্রোল পাম্প দখলে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী দুই নারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

পেট্রোল পাম্প, আদালত ও গ্রামের বাড়িতে আসলে ভুক্তভোগী দুই নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামীরা। পেট্রোল পাম্পের মামলায় আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে দখলে নেয়া হয়েছে পেট্রোল পাম্প । এতে পুলিশের ভূমিকায় হতবাক সচেতন মহলও। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন তারা।

ভুক্তভোগী দুই বোন জানান, বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে ওইসব জমির মালিক হন ভুক্তভোগী দুইবোন। আসামিরা গায়ের জোরে কোটি টাকার সম্পদ দখল নিতে চেষ্টা করলে বিচারের আশায় ভুক্তভোগী দুইবোন আদালতের দারস্থ হন। এ নিয়ে আদালতে ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পসহ জমিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। তবুও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পেট্রোল পাম্প দখল নিয়েছেন ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান।
ইবি থানা পুলিশকে একধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও এ বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
অভিযুক্তরা পুলিশকে ম্যানেজ করে পেট্রোল পাম্প দখল করেছে। আসামিরা সবসময় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে আমাদের। মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের কিছুই বলছে না। 
আমরা এর সঠিক বিচার চাই। আমরা জেলা প্রশাসক ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,ভূমি অফিসের তহসিলদার শাহ মেসবাহুর রহমানের যোগসাজশে ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান গায়ের জোরে পেট্রোল পাম্প দখল নিয়েছেন। এ নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। ভুক্তভোগী থানায় ঘুরেও কোন সমাধান পাচ্ছে না।  

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার শাহ মেসবাহুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। আমি জমি কিনেছি। অবৈধভাবে বা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি দখল করা হয়নি।

পেট্রোল পাম্প দখলদার নুরুজ্জামান বলেন,আমি হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের তহসিলদার শাহ মেসবাহুর রহমানের কাছে থেকে পাম্প কিনে নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা। কিছু বলার থাকলে তহসিলদার শাহ মেসবাহুর রহমানের সঙ্গে কথা বলুন।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আননূর জায়েদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


নিউজনাউ/এসএইচ/২০২২ 

X