alo
ঢাকা, শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শরীফের করা দুর্নীতির মামলার আসামিদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২২, ০১:৫২ পিএম

শরীফের করা দুর্নীতির মামলার আসামিদের সংবাদ সম্মেলন
alo


চট্টগ্রাম ব্যুরো: দুদকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারই করা দুর্নীতির মামলার তিন আসামি। 

বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। 

সংবাদ সম্মেলন করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সারওয়ার হোসেন, একই প্রতিষ্ঠানের সার্ভেয়ার দিদারুল আলম ও আরএফ বিল্ডার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অবৈধ সুবিধা নিতে না পেরে দুদকের তৎকালীন কর্মকর্তা শরীফ তাদের (সারওয়ার, দিদারুল ও দেলোয়ার) বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সারওয়ার। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে শরীফ তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেন। নিয়ম মেনে তিনি নগরের হালিশহর থেকে চান্দগাঁওয়ে ১২টি গ্যাসের চুলার সংযোগ স্থানান্তর করেছেন। শরীফের শাশুড়ির আকবর শাহ এলাকার গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া শরীফ তার ভাই শিহাব উদ্দিনকে কেডিসিএলে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। শিহাবের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ ছিল ভুয়া। শিহাবের চাকরি স্থায়ী করার জন্য কেডিসিএলের কর্মকর্তাদের চাপ দিতেন শরীফ। তিনি তার এক খালাতো ভাইকে কেজিডিসিএলে গাড়িচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। কক্সবাজারের বেলায়েত হোসেন নামের এক দালালের মাধ্যমে শরীফ ঘুষ নিতেন। শরীফের সম্পদ যাচাই-বাছাই করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার বলেন, তিনি বৈধ পথে আয় করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তারপরও স্ত্রীসহ তাকে আসামি করে মামলা করেছেন শরীফ। নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার দুটি দোকান তার কাছে চেয়েছিলেন শরীফ। তা না দেওয়ায় শরীফ মামলা করেছেন। দেলোয়ারের অভিযোগ অস্বীকার করেন শরীফ। তিনি বলেন, কমিশনের অনুমোদনের আলোকেই তিনি মামলা করার দায়িত্ব পান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসামিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দুদক তা অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলার অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। তাই শরীফের বিরুদ্ধে এখন কেন সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে?

এদিকে সারওয়ার, দিদারুল ও দেলোয়ারের করা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরীফ। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেননি বলেই প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এখন তারা জামিনে রয়েছেন। মামলা তদন্ত করছে দুদক।

শরীফ বলেন, হালিশহরের নুর জাহান নামের এক নারীর সই জাল করে তাঁর ১২টি চুলা চান্দগাঁওয়ে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের নামে স্থানান্তর করেন সরোয়ার। নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তি তার নামে থাকা চুলা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে পারবেন। কিন্তু তা অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে গত বছরের জুনে সরোয়ার, কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ট্রান্সমিশন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মজিবুর রহমান, সার্ভেয়ার মো. দিদারুল আলম ও গ্রাহক মুজিবুর রহমানকে আসামি করে মামলা হয়। অনুসন্ধানে সত্যতা মেলায় দুদক অনুমোদন দেয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। এখানে ব্যক্তিগত আক্রোশের কিছুই নেই।

শরীফ বলেন, তার কী সম্পদ আছে, তা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে। দুর্নীতি করলে আজকে তাকে দোকানের কর্মী হিসেবে চাকরি করতে হতো না। এক ব্যক্তির নামের গ্যাসের চুলা কীভাবে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হলো, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। ভাই শিহাবের শিক্ষাগত যোগ্যতার সব কাগজপত্র সঠিক বলে দাবি করেন শরীফ। তিনি বলেন, সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার ভাই পোষ্য কোটায় রেলওয়েতে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। আর তার কোনো খালাতো ভাই গাড়িচালক হিসেবে কেজিডিসিএলে নেই।

আকবর শাহ এলাকায় শাশুড়ির বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন শরীফ। জনৈক বেলায়েতের মাধ্যমে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন শরীফ। তিনি বলেন, তিনি বেলায়েতকে কক্সবাজারের পিবিআই প্রকল্পের দুর্নীতির মামলায় আসামি করার প্রস্তাব করেছেন। তার মাধ্যমে তিনি যদি ঘুষ নিতেন, তাহলে তাকে কেন আসামি করার প্রস্তাব করলেন।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক ছিলেন শরীফ। দীর্ঘ সময় তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি কক্সবাজারে ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, কিছু রোহিঙ্গার এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করেন।

গত বছরের ১৬ জুন শরীফকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতির কোনো কারণ উল্লেখ করেনি কর্তৃপক্ষ। তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেন। তবে তার আবেদন কমিশনের কাছে বিবেচিত হয়নি।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২
 

X