alo
ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

৯ ফুট জলোচ্ছ্বাসে উপকূল অতিক্রম করেছে সিত্রাং

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২২, ০২:২৭ এএম

৯ ফুট জলোচ্ছ্বাসে উপকূল অতিক্রম করেছে সিত্রাং
alo

 

নিউজনাউ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে।এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। 

সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত থেকে ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রাত সোয়া ১২টায় আবওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কেন্দ্র বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এখন এটি সামনের দিকে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ও কক্সবাজারসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যায় উপকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৯ ফুট (৩ মিটার) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের মধ্যে গাছ ভেঙে পড়ে এবং দেয়াল ধসে দেশের চার জেলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। 

এর মধ্যে ভোলার দৌলতখান ও চরফ্যাশন এবং নড়াইলের লোহাগড়ায় গাছ ভেঙে তিনজনের মৃত্যু হয়।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ঝড়ো বাতাসে ঘরের ওপর গাছ পড়ে প্রাণ যায় এক দম্পতি এবং তাদের চার বছরের শিশুর।

ঝড়ের সময় ঢাকার হাজারীবাগেও দেয়াল ধসে এক রিকশাচালকের মৃত্যুর খবর দিয়েছে পুলিশ।

আবহাওয়া অফিস জানায়, মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। সেইসঙ্গে এসব এলাকায় ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। সেইসঙ্গে এসব এলাকায় ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশের অন্যান্য জেলায় ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফরিদপুর, ঢাকা, মাদারিপুর, গোপালগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলার নদী বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর নৌ-বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়, অমাবশ্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয় থাকতে বলা হয়েছে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২২

X