alo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অবহেলা-অযত্নে দেশের সবচেয়ে ছোট মসজিদ

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:০৫ এএম

অবহেলা-অযত্নে দেশের সবচেয়ে ছোট মসজিদ
alo

 

আতিক বাবু, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার পলাশবাড়ী পৌরসভার দক্ষিণ বন্দর নুনিয়াগাড়ী গ্রামে সাতশ' বছরের পুরাতন অলৌকিক এক গুম্বুজ বিশিষ্ট দেশের সবচেয়ে ছোট মসজিদ। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বেহাল দশায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মসজিদটি। ৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের মসজিদটিতে ইমামসহ নামাজ পড়া যেত পাঁচজন। স্থানীয়দের ধারণা এটি সাতশো বছর আগে কোন এক রাতে হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে মসজিদটি সংস্কার করা সম্ভব। 

জেলার পলাশবাড়ি পৌরসভার এ মসজিদটির প্রাচীন স্থাপত্য, নকশা ও আরবি হরফ মুদ্রিত, চুন, সুরকি ও ইটের তৈরি পাঁচশো বছরের পুরোনো দেশের সবচেয়ে ছোট এক গম্বুজ মসজিদ বলে ধারনা করা হচ্ছে। ভেতর রয়েছে একটি মাত্র কক্ষ। এক সময়  এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারত ইমামসহ পাঁচজন।  কালের বির্বতনে এবং জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  এই মসজিদ স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে  বর্তমানে মসজিদের অবকাঠামোর সামনে বিশাল আয়তনের একটি মসজিদ  তৈরি  করা হয়েছে।  ফলে এই  এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদ ঘরটি আর সংস্কার করা হয়নি। মসজিদটির  রঙ উঠে শ্যাওলা জমে কালচে হয়েছে। চার কোনায় থাকা চারটি পিলারের নান্দনিক কারুকার্য বর্তমানে বিলীন। 

মসজিদটি ২০১৩ সালের ২ জুন সংরক্ষিত প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ফলে মসজিদটি রংপুর বিভাগের মধ্যে স্থাপত্যের তালিকায় স্থান পেলেও নেয়নি সংস্কারের উদ্যোগ।

বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বেহাল দশায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ৬ ফুটের এ মসজিদটির নাম ও তৈরি  নিয়েও রয়েছে নানা কথা। কেহ বলছে এটি অলৌকিকভাবে এক রাতে তৈরি হয়েছে। আবার কেহ বলছে এটি ৭ শত বছর আগে নবাব সুজাউদ্দৌলা তৈরি করেছেন।

স্থানীয় কেরামত উল্লাহ মণ্ডলের ছেলে কাদিরবক্স মণ্ডলের নামে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও এর নাম নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। এলাকাবাসী ও তার বংশধররা বলছেন, তিনি এটি নির্মাণ করেননি। 

এ ব্যাপারে ওই মসজিদ কমিটির সদস্য ও জমি দানকারী মণ্ডল পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য মজিদ মণ্ডল জানান, আমার দাদার মুখে শুনেছি মসজিদটিতে ইমামসহ পাঁচজন নামাজ আদায় করতেন। বাকিরা বাইরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করতেন। স্থানীয় আরেক প্রবীণ বাসিন্দা পলাশবাড়ী উপজেলার মুনিয়াগাড়ী গ্রামের এক গম্বুজ মসজিদ ভোলা মুন্সী (৮০) বলেন, 'আমরা দাদাদের মুখ থেকে শুনেছি মসজিদটি এক রাতে হয়েছে। এই অঞ্চলে তখন কোনো মসজিদ ছিল না। এলাকাটিতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। সকালে ওঠে দেখেন এখানে একটি মসজিদ ঘর। তখন থেকেই এলাকার মুসলমানরা এখানে নামাজ আদায় করে আসছিল। প্রাচীন এ মসজিদের। এলাকার অনেকেই বলেন, মসজিদটি এক রাতেই হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মণ্ডল পরিবারের সদস্য আব্দুল মতিন নিউজনাউকে জানান, এটি সম্ভবত নবাব সুজা-উদ- দৌলার আমলের। বিভিন্ন সময় স্থানীয় ও সরকারিভাবে মসজিদটির ইতিহাস উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুর সবুর মসজিদটি পরিদর্শন করেন। এ নিয়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। 

পলাশবাড়ীর মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রবীণ ব্যক্তি বেজানুর রহমান ডিপটি বলেন, মসজিদটি সংরক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়। ২০১৩ সালের ২ জুন মসজিদটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ফলে এটি রংপুর বিভাগের মধ্যে প্রাচীন স্থাপত্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মাস্তা এলাকার প্রাচীন লাল মসজিদ ও পার্শ্ববর্তি দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর এলাকার সৌর মসজিদ দেখে ধারণা করা যায় এটি নবাব সুজা-উদ-দৌলার আমলে নির্মিত। নবাবের আমলে নির্মিত মসজিদ দুটির স্থাপত্য শৈলীর কিছুটা ছাপ পাওয়া গেলেও সংস্কার  অভাবে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। সঠিক সংস্কার হলে এটিও দেশের অন্যান্ন দর্শনিয় স্থাপত্যের মাঝে জায়গা করে নিবে এমনটাই প্রত্যাশা।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

X