কাউন্সিলে এবারো চমক থাকবে চট্টগ্রামে

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে রাজনীতির ঢামাডোলে আলোচনায় আবারো চ্ট্টগ্রাম। এবার কমিটিতে কে থাকছেন আর কে থাকবেন না তা নিয়ে রীতিমত আলোচনামুখর চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল। দিন যতই এগুচ্ছে ততই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়ছে নেতাদের মাঝে। আর এনিয়ে পদ প্রত্যাশীদের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নতুন কমিটিতে চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় আছেন এবার সাত নেতা। কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন, নতুন করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কে কে যুক্ত হচ্ছেন এই আলোচনা রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম-সর্বত্র। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন ৪জন। এছাড়া আছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। তিনি আবারও প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে থাকবেন বলে জানা গেছে।বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
দলীয় একটি সূত্র বলছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমান কমিটিতে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী কমিটিতে তাঁরা যে থাকছেন সেটা অনেকটা নিশ্চিত। সাংগঠনিক কর্মদক্ষতার গুণে আগামী কমিটিতে আরো ভালো পদে আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদের পাশাপাশি এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জ্যেষ্ঠপুত্র আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান রুহেলও ভালো পদে আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে মাঈনুদ্দিন হাসানের নাম দক্ষিণ জেলার নতুন কমিটিতেও শোনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় অথবা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে তাঁকে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।
চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতির সোনালি অর্জন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই তিন নেতা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। তিনজনই ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এদের মধ্যে বাবু ও মহিউদ্দিন মারা গেছেন। এখনো নেতৃত্বে আছেন মোশাররফ। বাবু ও মহিউদ্দিন মৃত্যুর আগে নিজেদের জ্যেষ্ঠ সন্তানদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আখতারুজ্জামান বাবুর মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠ সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে এমপির মনোনয়ন দিয়ে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পরে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়। গত কমিটিতে করা হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
অপরদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। তিনি মারা যাওয়ার পর কোতোয়ালী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে করা হয়েছে শিক্ষা উপমন্ত্রী। একইভাবে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও চান, তিনি জীবিত থাকাকালীন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তানকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবার দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে পারেন। একইভাবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আবু সুফিয়ান ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় সম্মেলন হবে আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান