করোনা রোধে প্রাণায়াম

নিউজনাউ ডেস্ক : করোনায় আক্রান্ত হলে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, যার দরুন অনেকেই সেগুলোর সাথে লড়াই করে টিকতে না পারায় মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। সে সমস্যা বা লক্ষণ গুলোকে আমরা প্রাণায়ামের মাধ্যমে অচিরেই দূর করতে পারি। প্রাণায়ামের নিয়মিত অভ্যাস করলে ইমিউনিটি মজবুত হয়। যার কারনে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

প্রাণায়ামের সময় যে বিষয়টি অবশ্যই মনে রেখে মেনে চলতে হবে তা হলো মেরুদন্ড সোজা রেখে প্রাণায়ামের অভ্যাস করা। এটা না মানলে হীতের বিপরীত হবার আশংকা থাকে।

প্রাণায়াম অর্থ নিশ্বাস প্রশ্বাসের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ।প্রাণায়াম অনেক প্রকারের আছে। এখানে তিন ধরনের প্রাণায়ামের উল্লেখ করা হচ্ছে, যেগুলো করোনাকে প্রতিহত করতে আমাদের সাহায্য করবে।

করোনায় যে লক্ষন গুলি দেখা দেয় যেমন, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, কফ জনিত সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা, হার্টে ব্লকেজ, অক্সিজেন পেতে সমস্যা, কানে সমস্যা, স্বাদজনিত সমস্যা সহ উচ্চ-রক্তচাপ,সাইনাস, হাঁপানী,কাশি, টনসিল, এলার্জী,স্থূলতা, ডায়াবেটিজ, গ্যাস,কোষ্ঠকাঠিন্য, , কিডনী এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত ভয়ঙ্কর রোগেও এই প্রাণায়াম গুলির নিয়মিত অভ্যাসে দূর হয়।

প্রাণায়াম দ্বারা ডায়াবেটিজকে বিনা ওষুধে নিরাময় করা যেতে পারে। মুখের ত্বকে ভাজ পড়া, দৃষ্টি শক্তির ঔজ্জ্বল্য হ্রাস, স্মৃতি দৌর্বল্য ইত্যাদি থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

তিনধরনের এই বিশেষ প্রাণায়ামের নিয়মগুলি একে একে তুলে ধরা হলোঃ

ভ্রামরী প্রাণায়াম

শ্বাস নিতে নিতে ভিতরে পুরে মধ্যমা আঙুল দিয়ে নাসিকার মূলে চোখের পাশটা দু পাশ থেকে একটু চাপুন, দু হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে দুটো।কান পুরোপুরি বন্ধ করে নিন । এবার ভ্রমরের মত গুঞ্জন করতে করতে নাদ রূপে ওঁ-য়ের উচ্চারণ করতে করতে শ্বাস বাইরে ছেড়ে দিন।আবার এই প্রকারের পুনরাবৃত্তি করুন। এইভাবে এই প্রাণায়াম কম পক্ষে তিন বার অতি অবশ্যই করুন। এই প্রাণায়াম ১১ থেকে ২১ বার পর্যন্ত করা যেতে পারে।

অনুলোম বিলোম প্রাণায়াম

নাসিকা বন্ধ করার বিধি ডান হাতকে তুলে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দ্বারা ডান দিকের নাসারন্ধ্র এবং অনামিকা বা মধ্যমা আঙুল দ্বারা বাঁ দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ করা উচিত।বা নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে ডান নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়া, তারপর ডান নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে বা নাক দিয়ে শ্বাসকে বাইরে ছাড়া।

এই প্রক্রিয়া প্রায় ১ মিনিট পর্যন্ত করলে শরীরে ক্লান্তি অনুভব হতে থাকে। ক্লান্ত হয়ে উঠলে মাঝখানে একটু বিশ্রাম করে, ক্লান্তি দূর হলে আবার প্রাণায়াম করুন। এই প্রকার৩ মিনিট থেকে শুরু করে এই প্রাণায়ামকে ৮, ১০ মিনিট পর্যন্ত করে যেতে পারে।

এই প্রাণায়ামের নিয়িমিত অভ্যাসে শক্তি সামর্থ্য বেড়ে ওঠে এবং এক মাসের মধ্যে অভ্যাসকারী না থেমে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত এই প্রাণায়াম করতে থাকেন। পাঁচ মিনিট পর্যন্ত এর অভ্যাস প্রতিটি ব্যক্তির করা উচিত। এই প্রাণায়াম করার অধিকতম সময় হচ্ছে ১০ মিনিট।

কপালভাতি প্রাণায়াম

কপাল অর্থাৎ অগ্র মস্তিষ্ক। যে প্রাণায়াম করলে অগ্র মস্তিষ্ক অর্থাৎ কপালে আভা কান্তি এবং তেজ বেড়ে ওঠে সেই প্রাণায়াম হচ্ছে—কপালভাতি। এই প্রাণায়ামের নিয়মাবলী ভস্ত্রিকা প্রাণায়ামের থেকে একটু আলাদা।

শ্বাসকে ভেতরে ভরার চেষ্টা না করে, উন্টে সহজ রুপে যতটা শ্বাস ভেতরে চলে যায়, যেতে দেওয়া হয়, পূর্ণ একাগ্রতা শ্বাসকে বাইরে ছাড়ার ওপরেই দেওয়া হয়। এমনটা করলে পেটেও স্বাভাবিক রূপে সঙ্কোচন এবং প্রসারণ হয়।এই প্রাণায়ামকে কম পক্ষে ৫ মিনিট পর্যন্ত অবশ্যই করা উচিত।

শুরুতে কপালভাতি প্রাণায়াম করার সময় যখনই ক্লান্তি অনুভব হবে, একটু বিশ্রাম করে নেবেন। এক থেকে দু মাস অভ্যাস করার পর এই
প্রাণায়ামকে পাঁচ ছয় মিনিট পর্যন্ত করা যেতে পারে। এটাই হচ্ছে এই প্রাণায়ামের পূর্ণ সময়।

শুরুতে পেট আর কোমরে যন্ত্রণা হতে থাকে। সেই যন্ত্রণা ধীরে-ধীরে আপনা থেকেই দূর হয়ে যাবে।

উপোরোক্ত প্রাণায়াম গুলো করোনা থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ভারতের স্বয়ামী রামদেব চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রাণায়ামের গুরুত্বের কথা সবসময় তুলে ধরেন।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২১

 

 

 

 

 

 

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: