তাঁকে চিনি কৈশোর থেকে

অজয় দাস-গুপ্তা:
এক) তাঁকে চিনি কৈশোর থেকে।তাঁর রাইফেল কাঁধে ঢাকায় ঢোকার ছবি এক ইতিহাস। এই দেশও মাটিকে শত্রু মুক্ত করার জন্য একুশ বছরের টগবগে তরুণ গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। জান বাজী রেখে লড়াই করা তরুণ শহীদ হলেও অবাক হবার কিছু ছিলো কি?
দুই) দেশ স্বাধীন হবার পর কতো মুক্তিযোদ্ধা ভোল পাল্টালেন। কতো জন হালুয়া রুটির লোভে নীতি বিসর্জন দিলেন। বীরোত্তম কাদের সিদ্দিকী থেকে এ কে খন্দকার কতো স্খলন। কিন্তু তাঁর বেলায় ঘটনা অন্য। যৌবনে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও ক্রমে তিনি হয়ে উঠলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শের প্রতীক।
তিন) তারুণ্যেই জানা হয়ে গেছিল নাটক নাট্য আন্দোলনে তিনি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের নাটক মঞ্চ নিয়ে কৌতুহল ছিলো অামার। সরাসরি না হলেও নাটক দেখা নাটক নিয়ে লেখালেখি করতাম। একসময় গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেল তির্যকের পুরোধা অাহমেদ ইকবাল হায়দারের সাথে। হায়দার সুযোগ পেলেই অামাকে মঞ্চে তুলে দিতো। হয়তো তার মনে ছিল, দেখি তো কি করো? তেমনি একবার সুযোগ হয়েছিল প্রয়াত সেলিম অাল দীন ও তাঁর সাথে বক্তব্য রাখার। তাঁর কথাতেই বুঝেছিলাম নেপথ্যের শক্তি কি, অার নেপথ্যে থেকেও একজন মানুষ কি ভাবে ধারণ করেন করতে পারেন ঢাকা থিয়েটারের মতো একটি নাট্যদল। প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদি, অাফজাল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, আল মনসুর অারো অনেক তারকা খচিত এই দলের মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকা সহজ ব্যাপার? কিন্তু সবাই জানেন তিনিই ছিলেন ছাতা।
চার) যৌবনে এসে নজর কাড়লো তাঁর একাত্তরের যীশু। তখনকার বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে উঠেছিল বিকৃত ইতিহাসের শিকার। সে সময় অমন একটা ছবি বানানো সহজ কিছু ছিলো না। ছবিটিতে তুমি নির্মল করো মঙ্গল করে গানটি দেখার সময় হু হু করে কেঁদেছিলাম। তখনকার বহুল জনপ্রিয় দৈনিক জনকণ্ঠে লিখেছিলামও এ নিয়ে।
পাঁচ) কালক্রমে সামাজিক মিডিয়ায় যুক্ত হবার সুযোগে পেলাম তাঁর উদার মনের পরিচয়। খ্যাতিমান কিংবদন্তী মানুষেরা অনুজদের বিষয়ে চুপ থাকাকেই মনে করেন বুদ্ধিজীবীর লক্ষণ। প্রয়াত অালী যাকের প্রিয় অাবেদ খান ও তাঁকে দেখেছি দেখছি ব্যতিক্রম। মুক্তকন্ঠে কেবল প্রশংসা নয় লিখেও তার জানান দেন তিনি।
এই যেমন অাজ তাঁর জন্মদিনে ফোনে কথা হলো দীর্ঘ সময়। সে কথার ফাঁকেই জানালেন অামার দুটো ছড়া তুলে রেখে শ্রদ্ধেয় শিমুল ইউসুফ কে দিয়েছেন সুর করতে।
আমার অভিনয় পাগল অভিনেতা ছেলেটার কথা সবসময় মনে রাখেন তিনি। জন্মদিনেও অর্কের কথা ওর কাজের খবর নিতে ভোলেন নি
কথা শেষ হবার পর ফোন খুলে দেখি ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে রেখেছেন তাঁর ভালো লাগার কথা। বিনয়ী মানুষ চিরকালই এমন। তাইতো বলেন, তিনি অনুজেরও ভালোবাসা চান যেন সারাজীবন অসত্যের বিরুদ্ধে থাকতে পারেন।
অাপনাকে শতায়ু হতেই হবে দাদা। অাপনি অামাদের অাশার বাতিঘর। অাজ ৭১ এ পা দিলেন ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।
অাপনাকে স্যালুট বাচ্চু ভাই।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: