করোনা নিষেধাজ্ঞা এবং ছুটির কারণে ফাঁকা ঢাকার রাস্তা

নিউজনাউ ডেস্ক: আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার,অন্যদিকে সরকার ঘোষিত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধের চলছে তৃতীয় দিন । নিষেধাজ্ঞা আর ছুটির কারণে ঢাকার রাস্তা আজ ফাঁকা। রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের কোন চাপ নেই গত দুইদিনের তুলনায়। আজ অধিকাংশ মানুষই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছেন না।

শুক্রবার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, বিগত দুই দিনের তুলনায় আজ রাস্তায় সকাল থেকেই অনেকটা কম গাড়ির চাপ । খুব জরুরি কাজেই শুধুমাত্র বাসা থেকে কয়েকজন বের হয়েছেন । গত আজ রাস্তায় রিকশার ও প্রাইভেট কার এর সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক কম।

জানা যায়, বিধিনিষেধের মাঝে যেসকল অফিস খোলা ছিল সেগুলোও আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কারণে বন্ধ ছিল। বিগত দুইদিনে রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ চাপ বেশি ছিল অফিস খোলা থাকার কারণে ৷ কিন্তু আজ ঢাকার রাস্তার চিত্রটা ভিন্ন,বন্ধের দিন হওয়ার ফলে রাস্তায় নেই গাড়ির চাপ। এছাড়া করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে মানুষও খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছেন না।

আজ চেকপোস্টেও তেমন ব্যস্ততা দেখা যায়নি রাস্তায় মানুষেরর চাপ কম থাকার কারণে।হাতে গোনা কিছু যাত্রী শুধুমাত্র চেকপোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন,পুলিশ সদস্যরা তাদের মুভমেন্ট পাস যাচাই করে দেখছেন।

দেশের সরকার করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছেন।কঠোর এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে বাংলা নববর্ষের প্রথম তারিখ ১৪ এপ্রিল থেকে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য ১১ দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ।এরপর আবার জারিকৃত সিদ্ধান্ত থেকে দুদিন পর সরে এসে সকাল ৬ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া দেয়। আবার একদিন পর পরই শপিংমলও খুলে দেয় । এতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে সমালোচনা করেন ।

এরই মাঝে বাড়তে থাকে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই । প্রতিদিনই দেশে নতুন রেকর্ড হচ্ছে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের । এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন “প্রয়োজনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।”

তারপর গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউন’ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। পরে একই কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ১২ এপ্রিল ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেন।

বিধিনিষেধ আরোপের পর পরই পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে । বাহিরে যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছে মুভমেন্ট পাস দেখাতে পারলেই ছাড়া পাচ্ছেন তারা নাহলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। আর যারা অযথা বাইরে বের হয়েছে, তাদের কাউকে হুঁশিয়ারি আবার কাউকে মামলা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ মুভমেন্ট পাসের ব্যবস্থা করেছে তাদের জন্য , যাদের একান্তই বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে । মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ movementpass.police.gov.bd ওয়েবসাইট ও অ্যাপের উদ্বোধন করেন ।

নিউজনাউ/এসজেএম/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: