ওড়াকান্দির স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: করোনা মহামারীর মধ্যেও পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরি-চাঁদ ঠাকুরের ২১০ তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত হল পুণ্য স্নান।

এ দিন প্রত্যুষে মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি সীমা দেবী ঠাকুর, মতুয়াচার্য পদ্মনাভ ঠাকুর ওড়াকান্দির কামনা সরোবরে স্নান করে স্নানোৎসবের শুভ সূচনা করেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের ৬ষ্ঠ পুরুষ ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর হিল্টু বলেন, সারা দেশের মত গোপালগঞ্জেও ঢিলেঢালা লকডাউন চলায় সূর্যোদয়ের পূর্বেই স্থানীয় ভক্তরা স্বল্প পরিসরে ওড়াকান্দিতে পৌঁছে স্নানে অংশ নেন। এ সময় তারা শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে পূজা দেয়াসহ কামনা ও দুধ সারোবরে স্নান করেন।

ভক্তরা মনোবাসনা পুণ্যার্থে পূর্ণব্রহ্ম শ্রী হরি-চাঁদের নিকট প্রার্থনা করেন। সকালের দিকে ভক্ত সমাগম ছিলো। দিন বাড়ার সাথে সাথে ভক্তের উপস্থিতি কমতে থাকে । তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারী লাখ লাখ মতুয়া এ অনুষ্ঠানে যোগদান করে থাকেন। সারা দিন স্নানোৎসব চলে। বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মতুয়া জনগোষ্ঠীর লোকজন এখানে এসে থাকেন। করোনা মহামারীর কারনে গত বছর শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের এ জন্মোৎসবের মহা বারুনীর স্নান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

এবছর লকডাউন ঢিলেঢালা ভাবে চলায় ভক্তরা স্বল্প পরিসরে সকালের দিকে এই উৎসবে যোগদান করতে পেরেছেন।

মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর বাংলা ১২১৮ সালের ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাফলী ডাঙ্গা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জমিদারের অত্যাচারে বিতাড়িত হয়ে তিনি ওড়াকান্দিতে বসবাস করেন। সেখানে সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষের অস্পৃশ্যতা মোচন ও তাদের শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। বর্ণবাদ আর ধর্মান্ধতার যাঁতাকল থেকে নিম্নবর্তীয় মানুষের মুক্তির জন্য তিনি মতুয়া ধর্মাদর্শের প্রবর্তন করেন। ভক্তরা শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরকে বিষ্ণুর অবতার মনে করন।

গত ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শ্রীধাম ওড়াকান্দি সফরে আসেন এবং পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে পূজা-অর্চনা করেন ও মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। এরপর থেকে ওড়াকান্দি লাইম লাইটে চলে আসে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: