জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাময়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে সাগর-কন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ন্যায় রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতের অবস্থান। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ সমুদ্রসৈকত এখনো পর্যটনশিল্পের বাইরেই রয়ে গেছে।

পটুয়াখালী সহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুরতে আসে পর্যটকরা, তবে দিন দিন এখানে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও মোটরসাইকেল ও নৌযান ছাড়া যোগাযোগের অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় মাঝেমধ্যে পর্যটকদের বেশ অসুবিধায় পরতে হচ্ছে।

দীর্ঘ এ সমুদ্রসৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ রয়েছে। বালুচরে লাল কাঁকড়া। ঢেউয়ের গর্জন। বাতাসের তালে ঝাউপাতার শো শো শব্দ। সমুদ্রতটে চিকচিকে বালু। আর সমুদ্রের জলরাশির ঢেউ খেলা। সঙ্গে আছে ভোরের পূর্বাকাশে সমুদ্রের বুক চিরে জেগে ওঠা লাল সূর্য, বেলা শেষে পশ্চিমাকাশে হেলে পরার দৃশ্য। প্রায় চার কিলোমিটার সমুদ্রতট ঘিরে রয়েছে বিশাল ঝাউ-বাগান। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এ দৃশ্য আনন্দদায়ক। চিকচিকে বালুতে পা ফেলে চারদিকে তাকালে দেখা যাবে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি আর সাদা ঝিনুকের সমারোহ। কানে বেজে উঠবে ঝাউ-বনের শো শো শব্দ। সঙ্গে দূর দেশ থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখির কিচিরমিচির। হালকা বাতাসে চোখ বুজলে মনে হবে কোনও এক স্বপ্নরাজ্যের অতিথি। যেতে যেতে দেখা মিলবে পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, বন্য শূকর, খেঁকশিয়ালসহ নানা ধরনের পাখ-পাখালি আর বন্যপ্রাণী।

এ ছাড়া জাহাজমারার কাছাকাছি রয়েছে চরতুফানিয়া, চরতাপসী ও সোনার চর। তাই সরকারের সুদৃষ্টি মিললে অপার সম্ভাবনাময় স্থানটি বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করে স্থানীয় লোকজন। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা অনিক মল্লিক বলেন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ প্রশাসনের নজরদারী থাকলে শীত মৌসুমে আরও বেশী পর্যটক আসতো। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শীত মৌসুমে মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যকোন বাহন খাকে না। তাছাড়া এখানে রাত্রি যাপনের কোন সুযোগ না থাকায় পর্যটকদের মাঝেমধ্যে বিপদে পড়তে হয়। তাই সরকারীভাবে এখানে একটি রেষ্টহাউজ নির্মাণের দাবী জানান।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: