প্রসার বাড়ছে ই-কমার্স ভিত্তিক লজিষ্টিক ব্যবসার

নিউজনাউ ডেস্ক: দেশের বাজারে ই-কমার্স ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে ই-কমার্স ভিত্তিক লজিস্টিক্স ব্যবসা। ই-কমার্সে অর্ডার করা পণ্য গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে এই খাতের।

ডাটা রিসার্চ বিডি নামক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসেব মতে, বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে লজিস্টিক্স খাতের।

দেশে ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ই-কমার্স বান্ধব লজিস্টিক্স সেবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই দেশের বাজারে ধীরে ধীরে জায়গা করে করে নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ইভ্যালির লজিস্টিক্স উইং ই-লজিস্টিক্সের প্রধান এবং ইভ্যালির সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডাটা রিসার্চ বিডি’র হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালেই দেশে এই খাতের বাজার ছিল প্রায় এক দশমিক ছয় (১.৬) বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে যে এটা কমপক্ষে দুই বিলিয়ন সেটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এটা তিন দশমিক এক (৩.১) বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হবে। এই খাতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী স্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করছেন। ২০২২ সাল নাগাদ ফুল টাইম, পার্ট টাইম এবং ফ্রিল্যান্সার মিলিয়ে এই খাতে প্রায় ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

এই খাতের প্রসারের উদাহরণ তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, গত বছরের ৮ এপ্রিল ই-লজিস্টিক্স যখন শুরু হয় তখন প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার পণ্য ডেলিভারি হতো। এখন প্রতিদিন গ্রোসারি, ফুড এবং ফার্মাসিউটিক্যাল মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে। লকডাউনের মতো পরিস্থিতিতে এটা আরও বাড়বে।

গতানুগতিক লজিস্টিক্স প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ই-লজিস্টিক্স খাতের প্ল্যাটফর্মগুলো অধিক প্রযুক্তি এবং ই-কমার্স বান্ধব বলে মনে করেন চালডাল ডট কমের প্রধান নির্বাহী জিয়া আশরাফ। বলেন, সুন্দরবন, এস এ পরিবহন বা এই ধরনের ক্ল্যাসিকাল আরও যেসব প্রতিষ্ঠান আছে তাদের থেকে ই-কমার্সের লজিস্টিক্সদের সঙ্গে কাজ করা অনেক বেশি সহজ। ই-লজিস্টিক্সগুলো খুব দ্রুত নতুন প্রযুক্তি বা সিস্টেম ধারণ করতে পারে। ফলে মার্চেন্ট এবং গ্রাহক উভয়েই লাভবান হন, ভালো সেবা পান। ফলে এই খাতে নতুন কোম্পানিগুলো তাদের জায়গা করে নিতে পারছে।

জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার মতে, প্রতিবেশি দেশ ভারতে ই-লজিস্টিকসের বাজার প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের। আর বাংলাদেশে এই বাজার বর্তমানে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার।

ই-কুরিয়ারের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, গত বছর করোনার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ডেলিভারি থাকতো আমাদের। করোনার সময় জুন মাসে সেটি আট হাজারে উন্নীত হয়। ২০১৪ সালে ই-কুরিয়ারের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ পণ্য ডেলিভারি করেছি আমরা। বর্তমানে আমরা প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ পণ্য ডেলিভারি করছি।

নিউজনাউ/টিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: