ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে কাঠ বাদামের জুরি নেই।

নিউজনাউ ডেস্ক: এখন করোনায় খেতে হবে এমন সব খাবার যেগুলো শরীর থেকে ফ্রি রেডিকেল বের করে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালি করবে। আর এক্ষেত্রে কাঠবাদাম একটি আদর্শ নাম। যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এ ভরপুর।

অনেকের মতে , কাঠবাদাম চর্বিতে পূর্ণ একটি খাবার এবং এটি ওজন বাড়িয়ে দেয়। এই ধারণা সঠিক নয়। সত্য হচ্ছে, কাঠবাদাম ওজন কমাতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়ার জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি খাবার।

নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে । তাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কাঠবাদাম উপকারী। গবেষণা বলছে, বাদাম শরীরের এলডিএল (ক্ষতিকর কোলেস্টেরল)- এর মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। এটি রক্তপ্রবাহকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। আর সুস্বাস্থ্যের জন্য রক্ত প্রবাহের বিকল্প নেই।রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকলে শরীরের জয়েন্টের ব্যথার ও উপশম হয়।

ডায়াবেটিকদের প্রতিদিন ঘি দিয়ে এই বাদাম সেবন করা উচিৎ। এটি ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি কমাতে পারে এটি। অতিরিক্ত ক্ষুধাপ্রবণতা কমানোর পাশাপাশি এটি প্রোটিন ও ফাইবারেরও জোগান দেয়। তাই দুর্বলতাও কাটবে। ডায়াবেটিকও নিয়ন্ত্রণ করবে। কাঠবাদাম ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। গবেষণায় বলা হয়, খাবারের পর কাঠবাদাম খাওয়া ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

কাঠবাদামে আছে সেলেনিয়াম। এই খনিজটি সরাসরি বিষণ্নতা, মানসিক চাপ ও অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। মেজাজমর্জিও ঠিক রাখে এটি।
এই বিশেষ বাদামে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, মিনারেল ও ভিটামিন হাড়কে সুরক্ষা দেয়। ফসফরাস কেবল হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে না, এটি অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

কাঠবাদাম অ্যালকেলাইন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই; রয়েছে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। যেমন : ক্যানসার এবং ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা দেয়।
এটি কোলোন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি কোলনকে ভালো রাখতেও কাজ করে।

কাঠবাদামের মধ্যে থাকা মনো-আন স্যাচুরেটেট ফ্যাট, প্রোটিন ও পটাশিয়াম হার্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন-ই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি অ্যার্টারিকে ক্ষতিকর প্রদাহের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খাওয়া শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও রিবোফ্লাবিন শরীরে শক্তি জোগায়। এটি বিপাক প্রক্রিয়া ভালোভাবে হতেও সাহায্য করে।
এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের উপস্থিতির জন্য এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাই শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে প্রতিদিন কাঠবাদাম খেতে
পারেন।
কাঠবাদামে থাকা পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা রিবোফ্লাবিন ও এল-সারনিটিন মস্তিস্কের কার্যক্রম ভালো রাখে। এটি স্মৃতিভ্রম রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই বাদাম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে। এটি চুল ও ত্বকের জন্য ভালো। কাঠবাদামের রয়েছে অগণিত উপকারিতা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খাওয়া প্রয়োজন । এতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে খাওয়ারই পরামর্শ দেন তাঁরা।

নিউজনাউ/এসএইচ/ ২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: