আমি কেন বিজিএমইএ নির্বাচনে

তানভীর আহমেদ : বন্ধু/বান্ধব, শুভকাঙ্খীরা অনেকেই প্রশ্নটি করছেন। যারা আমাকে জানেন, তাদের জন্য প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত। আমার বাবা, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট কুতুবউদ্দিন আহমেদ কোন নির্বাচনে দাঁড়ালে, কেউ তাঁকে এই প্রশ্নটি করবে না। কারণ তিনি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। লিডারশীপ তার মজ্জাগত। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। আমি ভীষণ পারিবারিক মানুষ। চুপচাপ। অফিস-বাসা আমার চেনা জগত। এর বাইরে আমার এপিয়ারেন্স সত্যিই সীমিত। ফলে, বিজিএমইএর মতো একটি হিউজ ফোরামে আমাকে দেখে অনেকেই চমকেছেন।

আমি কেন বিজিএমইএ নির্বাচনে? এক কথায় এ প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। দিন কয়েক আগে ফেসবুকে জানিয়েছিলাম, প্যানেল লিডার ফারুক হাসান আংকেল আমাকেসহ আরো অনেককে কিভাবে এই নির্বাচনে এনেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন আর নির্বাচন করতে রাজি হয়েছি, আমার জন্য ব্যাপারটা একদমই এমন নয়। বরং তাঁর প্রস্তাব পাবার পর ভেবেছি। পরিবার, বাবা-মায়ের সাথে পরামর্শ করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজের সাথে বোঝাপড়া করেছি। বিজিএমইতে কি কন্ট্রিবিউট করতে পারবো- সে বিষয়ে কনভিন্স হবার পর নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়েছি।

এই দেশের মানুষ অর্থনীতি বলতে গার্মেন্টস, রেমিটেন্স এবং কৃষি বোঝে। পোশাক দেশের সবচেয়ে বড় খাত। দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবসায়ী হিসেবে আমি আসলে বুঝতে চেয়েছি, এখাতে নতুন করার কি আছে? খাতটিকে ঠিক কোন চেহারায় এবং কোন উচ্চতায় দেখতে চাই আমরা? তার জন্য করণীয় কি? কন্ট্রিবিউশন স্কোপগুলিই বা কতটুকু? পোশাকখাতকে চতুর্থ বা পঞ্চম শিল্প বিপ্লব উপযোগী করে তুলতে কি ধরণের সাংগঠনিক এপ্রোচ প্রয়োজন, ইত্যাদি?

এমন আরো অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে এবং মনে হয়েছে এসব জায়গায় প্রচুর কাজ করার আছে। যা আমাদেরই করতে হবে। যাত্রার শুরু থেকে পোশাকখাতকে আজকের অবস্থানে আনতে বিজিএমইএ’র সাবেক নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যার সুফল সবাই ভোগ করছি। এই প্রজন্মের ব্যবসায়ী হিসেবে পূর্বসুরীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। প্রশ্ন হচ্ছে, গত সাড়ে চার দশকে এখাতে যা অর্জন তা কি যথেষ্ট? না-কি, পাড়ি দেবার আছে আরো অনেক পথ।

ব্যবসায়ী হিসেবে আমার মনে হয়েছে, পোশাকখাত একটা জায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট সকলেই একটা বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এবং এতেই আমরা সন্তুষ্ট। অথচ পোশাক খাতের সামনে চ্যালেঞ্জ এখন যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী। কোভিডের মতো মহামারি, কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, কন্টেইনার সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা তো আছেই। এর ওপর ক্রেতারা আমাদের ওপর চেপে বসেছে। সব মিলিয়ে এখাতের নাভিশ্বাস উঠছে। বলে রাখা ভালো কোভিডের কারণে অন্যান্য খাতও সংকটে আছে।

যে কোন সংকটে ক্রিয়াশীল সংগঠন এবং নেতৃত্ব খুব জরুরি। এই সময়ে বিজিএমইএর প্রবল ভূমিকা আশা করে এ খাত ও সংশ্লিষ্টরা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবার এটাই ছিলো শ্রেষ্ঠ সময়। কারণ আমরা যখন ধীরপায়ে হাটছি, বিশ্ব তখন দৌঁড়াচ্ছে। যখন আমাদের প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা তখন আমরা একইবৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, সংগঠন হিসেবে বিজিএমইর আরো অবদান রাখার সুযোগ ছিলো।

পোশাক খাতের যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জেনেছে বাংলাদেশ সস্তা শ্রমে পোশাক তৈরি করে। সেভাবেই শুরুতে ব্র্যান্ডিং হয়েছিলো। এবং সেখান থেকে আমরা যে খুব বেশী সরে আসতে পেরেছি এমন নয়। ক্রেতারা এ কারণেই আমাদের ওপর চেপে বসার সুযোগ পাচ্ছে বলে ধারণা করি। অথচ আমরা ভালো কাপড় তৈরি করি, আমরা দক্ষ এবং প্যাশনেট, মনোযোগী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেরাদেরও সেরা, এই ব্র্যান্ডিং কম করি। শ্রমবাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। ক্রেতারা এটা জানেনও বোঝেন, কিন্তু আমরা তাদের বোঝাতে পারি না। যার সুযোগ নিচ্ছে দুনিয়ার প্রায় সব ব্র্যান্ড। এবং আমরা মান ও যোগ্যতার তুলনায় কম দামে কাজ করছি।

ফলে, রফতানিতে অবস্থান কোথায় তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, কত দ্রুত আমরা নিজেদের মধ্যে কোয়ালিটিটিভ পরিবর্তন আনতে পারছি। নিজেদের প্রতিযোগী দেশগুলোর লেভেলে নিয়ে যেতে পারছি। নেগোসিয়েশনে কতটা দক্ষ হয়ে উঠছি? খাত হিসেবে ক্রেতাদের সাথে কতটা মৌলিক লড়াই করতে পারছি? যেখানে প্রয়োজন স্পষ্ট করে কি ‘না’ বলতে শিখছি? পলিসি মেকারদের বোঝাতে পারছি? দেশী-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে আমাদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারছি? তরুণ প্রজন্মের চোখে আমাদের শিল্পকে কি ‘আইডল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছি? বিজিএমইএকে কি ‘ব্র্যান্ড’ সংগঠন হিসেবে তৈরি করতে পারছি?

অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় আমাদের এখন পোশাকের বেশী মূল্য পাওয়া উচিত। কারণ, আমরা গত সাড়ে চার দশকে নিজেদের শিল্পকে বিশ্বমানে নিয়ে গিয়েছি। নানা ধরণের সংস্কার করেছি এবং করছি। সঙ্গতকারণেই ব্যবসার খরচ বেড়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সংগঠন, ক্রেতাদের চাপে ও পরামর্শে টেকসই কারখানা করতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এরপরও, পোশাকের ন্যায্যমূল্য না পওয়া অন্যায়। শিল্প হিসেবে এই অন্যায় কতদিন সহ্য করবো? ক্রেতারা কি একই আচরণ ভিয়েতনাম, চীন, ভারত বা কম্বোডিয়াতে করতে পারবে? বায়ার কি তার পোশাকের দাম কমিয়েছে? তাদের দেশে বা রিটেইলগুলোতে? তাদের কি লাভ কমেছে? যদিও করোনার কারণে ব্র্যান্ডগুলো আমাদের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত। সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএর এই জায়গায় দৃঢ় ভূমিকা নেবার সুযোগ ছিলো এবং আছে।

আমার বিশ্বাস, আমাদের প্রজন্মের ব্যবসায়ীরা বিজিএমইএ নিয়ে আমার মতো করেই ভাবে। তা সে যে মত-পথেরই হই না কেন? বিজিএমইএর প্রাইভেট সেক্টরের গার্ডিয়ানের রোলে থাকার কথা। উন্নতির পাঠ্যপুস্তক আর সৃমদ্ধির সিলেবাস হবার কথা। যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; ক্রীড়াক্ষেত্রে তারা অভিভাবকের ভূমিকায় আছে। অন্য খেলাধূলা ও সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। কিন্তু বিজিএমইএ? শুধুই একটি সংগঠন হয়ে আছে। ক্যাপ্টেনহীন জাহাজ যেমন বিজিএমইএও আজ প্রায় তেমন দিশাহীন।

ফলে প্রোডাক্ট ও ইন্ডাস্ট্রি ডাইভারসিটি, আর্থিকখাতে লিডারশীপ, কার্যকর ডায়ালগ আয়োজন, বিজনেস খরচ কমানো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক সংগঠন, নেটওয়ার্ক এবং বিদেশী মিশনগুলোর সাথে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর মতো হাজারো কাজে যথেষ্ট এগোতে পারছি না। অথচ একাজগুলো করা গেলে পোশাকখাতকে বিশ্বে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা সম্ভব। এবং সেটাই ভবিষ্যতের নেতৃবৃন্দের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমাদের অর্থের অভাব নেই, ক্রেতার অভাব নেই। মালিক-শ্রমিকের অভাব নেই। বিশ্বের সবচেয়ে ভালো গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো এখানেই। আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব নেই। সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। এখানে এমন অনেক কিছু আছে যা পৃথিবীর বহু দেশের নেই। তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? আমাদের অভাব আসলে মানসিকতায়, দূরদৃষ্টিতে, লিডারশীপে। আর এই অনুভুতিই আমাকে নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেছে। মনে হয়েছে, এই কাজগুলো বিজিএমইএর মতো প্লাটফর্মে থেকে করতে হবে। পরিচালক নির্বাচিত হলেই যে সব হয়ে যাবে এমন নয়, তবে আমরা ভাবনাটা পুরো বোর্ডের সাথে ভাগ করতে পারবো। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছি।

জানি, পোশাকখাত নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। বিজিএমইএ নিয়ে বাজারে প্রচুর কথাবার্তা চালু আছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের পারসেপশনও খুব ভালো নয়। যার দায় কমবেশী খাতসংশ্লিষ্ট সবার। এরপরেও আমাদের দাবি করা উচিত সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, আয়, দারিদ্র্য বিমোচনের মতো অর্জনগুলো পোশাকখাতের হাত ধরেই এসেছে। ব্যবসায়ীসহ সমাজের বহু মানুষের জীবনে প্রচুর স্বাচ্ছন্দ্য এবং আভিজাত্য দিয়েছে। সমাজে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। দেশ-বিদেশ চিনিয়েছে। নেতা, এমপি, মন্ত্রী বানিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেক কিছু দেবে। বাংলাদেশকে লাক্সারি চিনিয়েছে। ফলে আমাদের এ খাতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

দীর্ঘদিন ব্যবসায় থাকলেও, আমার বিজিএমইএর মতো সংগঠনের অভিজ্ঞতা নেই। সংগঠনটি কিভাবে কাজ করে তাও পুরোটা জানিনা। ফলে নির্বাচনে জিতলেও আমি একা কিছু করতে পারবো না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন একজন অভিজ্ঞ ক্যাপ্টন। যিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং সামনে থেকে পথ দেখাবেন। বিজিএমইএ নামক জাহাজটিকে আমাদের স্বপ্ন বা তার কাছাকাছি কোন বন্দরে নিয়ে নোঙর করতে পারবেন। যিনি প্রান্তিক শ্রমিক, ঝানু রাজনীতিক, তুখোড় ব্যবসায়ী, ডাকসাইটে কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকসহ সবার সাথে সহজ ও সাবলীল। নিজের এবং সংগঠনের চাহিদা বিষয়ে পরিস্কার।

নির্বাচনে দুটি প্যানেল লড়ছে। আমার অবস্থান সম্মিলিত পরিষদের পক্ষে। কারণ প্যানেল লিডার ফারুক হাসান আংকেল। তিনি ব্যবসায় ৩৪ বছর, বিজিএমইএতে ২০ বছরের অভিজ্ঞ। বিজিএমইএর ক্যাপ্টেন হবার জন্য এই সময়ে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। তাঁর চেয়ে ভালো বিকল্প কে আছেন, আপনারাই ভেবে বলুন। হি ইজ দ্য বেস্ট, আনডাউটেডলি। এই প্যানেল নির্বাচিত হলে, রাতারাতি সব বদলে যাবে এমন নয়। তবে একটি গতিশীল-উদ্যমী এবং সৃষ্টিশীল বিজিএমইএ গড়ার কাজ শুরু করতে পারবো বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।

বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। অথচ আমরা সারা পৃথিবীর মানুষের কাপড় বানাই। পৃথিবীতে কত দেশ আর মানুষ যে আছে! পৃথিবীজোড়া এসব মানুষের কোটি কোটি রকমের পছন্দ ও রুচি। পোশাক মানেই রংয়ের সমাহার। ভাবতে পারেন, এই দেশে প্রতিদিন হাজারো-কোটি রংয়ের স্বপ্ন বুনন হয় আমাদের কারখানায়। সাদা-কালো, এশিয়ান বা আফ্রিকান, ইউরোপ বা আমেরিকান সব মানুষের রং, রুচি, পছন্দকে নিপুন হাতে সেলাই করে আমাদের মেয়েরা। এতো অসাম্প্রদায়িক, ভার্সাটাইল এবং কালারফুল সেক্টর আর কোথায় আছে।

পৃথিবীতে যত দেশ তত ধরণের মানুষ। ভাষা। পতাকা। ঐতিহ্য। পরম্পরা। আমরা বিজয়ী হলে, আমাদের থেকে কাপড় নেয়, এমন দেশগুলোর পতাকার জন্য একটি পোর্ডিয়াম বানানোর ইচ্ছে আমার। যেমনটা নিউইয়র্ক বা জেনেভাতে জাতিসংঘ অফিসের সামনে সদস্য দেশগুলোর পতাকা উড়তে থাকে। তেমনি বিজিএমইএতেও ক্রেতা দেশগুলোর পতাকা উড়বে। যা প্রতিমুহূর্তে মানুষকে মনে করিয়ে দেবে বিজিএমইএ একটি সার্বজনীন ব্যবসায়ীক সংগঠন। কাপড় বানিয়ে যারা দুনিয়ার প্রায় সব ধর্ম-বর্ণ-রাষ্ট্রের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। শুধুমাত্র শীর্ষ রফতানিকারক নয়, আমি চাই বিজিএমইএ হয়ে উঠবে বৈশ্বিক পোশাকখাতের ‘জাতিসংঘ’। স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ীদের জন্য হবে পার্লামেন্টস্বরূপ। যে সংগঠন হবে বৈষম্যহীন। ছোট-বড় সবার সাথে সমান আচরণ করবে।

শেষে, নির্বাচনে যারা লড়ছেন তারা সকলেই যোগ্য। পক্ষ-বিপক্ষ সকলেই এখাতের মানুষ। আমাদের বন্ধু/পরিচিত। সবারই শিল্পের প্রতি ভালোবাসা গভীর। সবার জন্য শুভকামনা। নির্বাচন যুদ্ধ নয়। বরং সেরাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠদের বেছে নেবার প্রক্রিয়া মাত্র। এই প্রক্রিয়ায় ভোটাররা বিচারক। আশা করি, ভোটাররা শ্রেষ্ঠদেরই বেছে নেবেন।

লেখক : তানভীর আহমেদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শেলটেক গ্রুপ
পরিচালক, এনভয় গ্রুপ
ব্যালট নং- ৪৫

+1
1
+1
0
+1
3
+1
0
+1
0
+1
2
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: