মহান স্বাধীনতা দিবস এবং কিছু কথা

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সাথেই এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালিত হলো। ২০২১ সালের মার্চ মাস নানা দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও করোনা মহামারিতে বিধ্বস্ত। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা থমকে গিয়েছে। মৌলবাদী শক্তি পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে না পারায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের গুপ্তচর সংস্থা বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন, আল জাজিরা টেলিভিশনে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর পরিবেশনা, অযৌক্তিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেয়া, করোনার মধ্যেও পরীক্ষা নেয়ার জন্য চাপ দেয়া, বরিশাল, জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামমাত্র অজুহাতে আন্দোলন গড়ে তোলা, বিএনপি ছাত্রদলের পুলিশের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে লাশের রাজনীতি করা এবং ডিজিটাল আইন বিরোধী সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর রয়েছে।

সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া সমাবেশ, রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, মেলা, সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। রেডিও- টেলিভিশন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বিশেষ অনুষ্ঠান ও ক্রোড়পত্রের মাধ্যমে পালন করে থাকে। একত্রিশ বার তোপধ্বনি প্রথম প্রহর শুরু হয়।

বাঙালি জাতির জীবনে স্বাধীনতা দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বছর আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারলাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজারের অধিক এবং সারা বিশ্বে ২৬ লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে যা পৃথিবীর ১১২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশে ১৩ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

জাতির জনকের সুযোগ্যা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার কারণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রাক্কালে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার সুপারিশ প্রদান করলো বাংলাদেশকে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো এবং বাংলাদেশ বিশ্বব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দুয়ার উন্মোচিত করলো। মুজিব শতর্ষের গত ১০ ডিসেম্বর ২০২০ পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে আরেকটি ঈর্ষান্বিত বিজয় অর্জিত হলো।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন, যুক্ত করলেন প্রমত্তা পদ্মার এপার ওপার। বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে এই পদ্মা সেতু স্থান করে নিল ইতিহাসের পাতায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা এখন আর অনুদানের আশায় বসে থাকবো না। নিজেদের টাকাই উন্নয়ন করবো। এই করোনার মহামারিতেও প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল ও অপার সম্ভাবনার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘর কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি সুপারিশ করেছে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভালো অবস্থানে আছে। তাই বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার অর্থনীতিতে বুল কেস বা ষাড়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অনবদ্য অবদানের জন্য বিশ্ব সমাদৃত প্রয়াত বিপ্লবী নেতা কিউবার দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রোকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা ভূষিত করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব নিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর সেই অনবদ্য উক্তি চির অম্লান, ‘আমি হিমালয় দেখিনি; কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি’। (বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৯৭ সালে ২৫ মার্চ বাংলাদেশে এসেছিলেন নোবেল পুরস্কার জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্নবাদ বিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, সেই সাথে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত আর তৎকালীন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। এবারও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলদেশ সফর করলে বাংলাদেশের পরীক্ষিত অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ, দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা।

করোনার এই সংকট কালেও বাংলাদেশের এবারের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী হলো বিশ্ব ইতিহাসের সাক্ষী। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নেব। এই দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করে বাস্তবে রূপ দান করবো। সকল অপশক্তি জঙ্গিবাদ মৌলবাদকে প্রতিহত করে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবো এই হোক স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমাদের অঙ্গিকার।

লেখক: ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: